চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতাধীন ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে। বাকি ছয়টি খালের মধ্যে পাঁচটির কাজ ৯৮ শতাংশ এবং হিজড়া খালের কাজ ৬৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমে নগরের জলাবদ্ধতা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কমেছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকল্পের সব কাজ শেষ হলে প্রকল্প এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরেন পরিচালক
গত মঙ্গলবার নগরীর বাকলিয়ার রাজাখালী আর্মি ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক ও সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসিন। তিনি জানান, ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। বাকি পাঁচটি খালের কাজ ৯৮ শতাংশ সম্পন্ন হলেও আগাম বর্ষার কারণে কিছু ফিনিশিং কাজ বাকি রয়েছে, যা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। পাশাপাশি হিজড়া খালের কাজের অগ্রগতি ৬৮ শতাংশ।
হিজড়া খালের কাজ সাময়িক বন্ধ
বর্ষা মৌসুমে খননকাজ চালালে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় হিজড়া খালের কাজ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে পুনরায় কাজ শুরু করে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে অবশিষ্ট রিটেইনিং ওয়াল, ব্রিজ এবং তিনটি সিল্ট ট্র্যাপের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ও জলাবদ্ধতা হ্রাস
জলাবদ্ধতা কমার দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে কর্নেল মহসিন বলেন, ‘৫ জুলাই থেকে মঙ্গলবার সকাল ১২টা পর্যন্ত পতেঙ্গা ও আমবাগান আবহাওয়া উপকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী ৫৪৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তারপরও অধিকাংশ এলাকায় পানি দ্রুত নেমে গেছে।’
তিনি জানান, প্রবর্তক মোড়ে কাজ বন্ধ করে খাল পরিষ্কার করার পর সেখানে আর পানি জমেনি। তবে একই খালের কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, মুরাদপুর বাসস্ট্যান্ডসহ কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে গেছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রকল্প পরিচালক আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকল্পের সব কাজ শেষ হলে নগরীর জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসন হবে। এতে নগরবাসী দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবে।



