জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন মন্ত্রিসভায়
জুয়া প্রতিরোধ আইনের খসড়া অনুমোদন মন্ত্রিসভায়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার দশম বৈঠকে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আইনটির খসড়া উপস্থাপন করা হয়।

জুয়া প্রতিরোধ আইনের মূল বৈশিষ্ট্য

খসড়ায় বলা হয়েছে, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জুয়ার বিস্তারে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন ঘটায় অনলাইন ও অফলাইন নানা ধরনের জুয়া কার্যক্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে জনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রবণতা হ্রাস ও আর্থসামাজিক ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধে ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ হালনাগাদ করে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • জুয়া খেলা, জুয়ার স্থান, ডিজিটাল সম্পদ, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন জুয়া, বাজি, ম্যাচ ফিক্সিংসহ বিভিন্ন বিষয়ের সংজ্ঞা নির্ধারণ।
  • অপরাধের প্রকৃতি ভেদে অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড বা উভয়দণ্ডের বিধান।

মন্ত্রিসভা খসড়াটি লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

পাবলিক পরীক্ষা সংশোধন আইন

একই সভায় ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে এই খসড়া উপস্থাপন করা হয়। বর্তমান প্রযুক্তির ব্যবহার ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধ বৃদ্ধির কারণে বিদ্যমান আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

সংশোধিত আইনের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিং বা অবৈধ পরিবর্তনকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ হিসেবে নতুন অপরাধ হিসেবে গণ্য করা।
  • ডিজিটাল ম্যানিপুলেশনের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান।
  • সংগঠিত পরীক্ষা জালিয়াতি বা চক্র গঠনের জন্য কঠোর শাস্তি ও জরিমানা।

বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন

সভায় ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর উদ্যোক্তাও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। খসড়ায় বলা হয়েছে, বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১ গেজেট আকারে প্রকাশিত হলেও কার্যকর হয়নি। বর্তমানে প্রশাসনিক নিয়োগ ও শিক্ষা কার্যক্রম চালুর প্রক্রিয়া চলছে। বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, কলা, আইন, কৃষি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ থাকবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংশোধন আইন

একইসঙ্গে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই আইনে মাদক পাচার ও অপব্যবহারের পরিবর্তিত ধরন, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তার এবং বিচারিক জটিলতা নিরসনে বিদ্যমান আইনের কিছু ধারা সংশোধন ও সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

  • মাদকদ্রব্য অপরাধ দমনে ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার বিধান।
  • সাইবার স্পেসে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ দমনে সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণের নতুন বিধান।
  • সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধ ও আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের বিধান।
  • মাদকদ্রব্য শনাক্তকরণে ডগ স্কোয়াড গঠনের বিধান।

মন্ত্রিসভা খসড়াটি লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।