রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিনোদপুর বাজারে অবস্থিত বাংলা টিফিন ও বঙ্গভোজ নামের দুটি রেস্তোরাঁয় বোমা হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনায় শনিবার রাতে আরএমপির মতিহার থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। মামলায় সাবেক শিবির ‘ক্যাডার’ রজমান আলীসহ ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। শুক্রবার রাতের ওই ঘটনায় তিন পুলিশ ও তিন হোটেল কর্মচারীসহ মোট ছয়জন আহত হন। ভাঙচুরের ফলে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয় রেস্তোরাঁ দুটির।
মামলার বিবরণ ও আসামি
এ ঘটনায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন রেস্তোরাঁ দুটির মালিক মোর্শেদ শাকিল। তবে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। অন্যদিকে আরেকটি মামলা করেছেন পুলিশের আহত কনস্টেবল ফয়েজ উদ্দিন। দুটি মামলাতেই প্রধান আসামি করা হয়েছে বিনোদপুর বাজার সংলগ্ন ধরমপুর খোজাপুর এলাকার সাবেক শিবির ক্যাডার রজমান আলীকে। প্রতিটি মামলাতেই রজমানসহ ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রজমানের বাড়ি মতিহার ধরমপুর এলাকার খোজাপুর গোরস্থানের কাছে। রজমান এক সময় শিবিরের দুর্ধর্ষ ‘ক্যাডার’ হয়ে কাজ করতেন বলে পুলিশ ও এলাকাবাসী জানিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মতিহার থানার বিনোদপুর বাজারের বাংলা টিফিন নামের রেস্তোরাঁয় খাবারের পার্সেল অর্ডার সরবরাহ দিতে বিলম্ব হওয়ায় শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় রজমানের সঙ্গে রেস্তোরাঁ কর্মচারীদের বাদানুবাদের ঘটনা ঘটে। এরপর সে হোটেল ত্যাগ করে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল ছুরি, রামদা, চাপাতি ও দেশি অস্ত্র নিয়ে বাংলা টিফিনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। সন্ত্রাসীরা পরপর চারটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে।
খবর পেয়ে মতিহার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের লক্ষ্য করেও দুটি হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে পুলিশ কনস্টেবল ফয়েজ উদ্দিনসহ তিন পুলিশ আহত হন। অন্যদিকে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয় রেস্তোরাঁর তিন কর্মচারী। সন্ত্রাসীরা মণ্ডলের মোড়ে অবস্থিত একই মালিকের বঙ্গভোজ নামের আরেকটি রেস্তোরাঁয় হামলা ও ভাঙচুর করে।
পুলিশের বক্তব্য
আরএমপির মতিহার থানার ওসি গোলাম কবীর জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে হামলাকারীরা পুলিশ ও রেস্তোরাঁ কর্মচারীদের লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি হাতবোমা নিক্ষেপ করে। এতে মতিহার থানার কনস্টেবল ফয়েজ উদ্দিন আহত হন। হাতবোমার আঘাতে তার পায়ে গুরুতর জখম হয়। তাকে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
মতিহার থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম কবীর আরও বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ক্ষমতা দেখাতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। লুটপাট ভাঙচুর ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রেস্তোরাঁ মালিকের অভিযোগ
রেস্তোরাঁ দুটির মালিক মুর্শেদ শাকিল বলেন, রোববার সকালে কর্মচারীরা রেস্তোরাঁ খুলতে গেলে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তাদের হুমকি দিয়ে গেছে। মামলা তুলে না নিলে রেস্তোরাঁ চালাতে দেওয়া হবে না। নিরাপত্তাহীনতার কারণে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এভাবে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাকে। কর্মচারীরা বেকার হয়ে যাবেন। পুরো পরিস্থিতি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
রজমানের পরিচিতি ও এলাকার প্রতিক্রিয়া
অভিযোগের বিষয়ে রজমানের মোবাইল ফোন নম্বরে ফোন দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার মতামত বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে এলাকার লোকজন ও বিনোদপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, রজমান পুলিশের তালিকাভুক্ত ‘সন্ত্রাসী’। তিনি এলাকার আধিপত্য ধরে রাখতে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল পরিচালনা করেন। এক সময় শিবিরের ‘অস্ত্রধারী’ ও ‘অস্ত্র সরবরাহকারী ক্যাডার’ ছিলেন। এখন পদ্মা নদীর কয়েকটি বালুঘাট নিয়ন্ত্রণ করেন রজমান ও তার সহযোগীরা।



