বাংলাদেশে পেশাজীবীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে পেশাজীবীদের আত্মহত্যার সংখ্যা ৪০ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাজের চাপ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবার অভাবে এই প্রবণতা দেখা দিচ্ছে।
কর্মক্ষেত্রের চাপ বাড়ছে
গবেষণায় অংশ নেওয়া পেশাজীবীদের মধ্যে ৬০ শতাংশই জানিয়েছেন, তাদের কাজের চাপ অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হচ্ছে, ছুটির দিনও কাজ করতে হয়। এর ফলে মানসিক চাপ বেড়ে যাচ্ছে। একজন চিকিৎসক জানান, "আমাদের হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১০০ জন রোগী দেখতে হয়। এত চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।"
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বড় কারণ
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও আত্মহত্যার হার বাড়ানোর অন্যতম কারণ। গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০ শতাংশ পেশাজীবী আর্থিক সংকটে রয়েছেন। বেতন কম, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। অনেকে চাকরি হারানোর ভয়ে থাকেন। একজন ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, "প্রতি মাসে ঋণের কিস্তি দিতে হিমশিম খাই। ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না।"
মানসিক স্বাস্থ্য সেবার অভাব
বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সেবার ব্যাপক অভাব রয়েছে। জনসংখ্যার তুলনায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা অত্যন্ত কম। পেশাজীবীদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নেওয়ার প্রবণতাও কম। তারা সমস্যা লুকিয়ে রাখেন বা নিজে নিজে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ১০ শতাংশ পেশাজীবী মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নেন।
সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেশাজীবীদের মধ্যে আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে। কাজের চাপ কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, "আত্মহত্যা প্রতিরোধে সবার আগে মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে। পেশাজীবীদের জন্য কাউন্সেলিং সেবা বাড়াতে হবে।"
সরকারের ভূমিকা
সরকারি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে বাস্তবায়ন এখনও সন্তোষজনক নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নীতি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগেও মানসিক স্বাস্থ্য সেবা বাড়ানোর আহ্বান জানান তারা।



