নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পাওনা টাকা আদায়ের জন্য এক অটোরিকশাচালককে পায়ে শিকল বেঁধে দুই দিন ধরে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার বিকেলে উপজেলার চরমজিদ ভূঁইয়ারহাট এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ।
নির্যাতনের শিকার ও অভিযুক্ত
নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির নাম মো. রিপন (৩৭)। তাঁর বাড়ি ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলায়। তবে বর্তমানে সুবর্ণচর উপজেলার চরমজিদ ভূঁইয়ারহাট এলাকায় বসবাস করেন। নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির নামও মো. রিপন (২৮)। তিনিও ভূঁইয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী রিপন ও অভিযুক্ত রিপন দুজন দুই বছর আগে যৌথভাবে ছাগলের ব্যবসা করতেন। নির্যাতনের শিকার হওয়া রিপনের কাছে অপরজনের ব্যবসায়িক সূত্রে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। পাওনা পরিশোধ না করায় গত শুক্রবার তাঁকে ডেকে নিয়ে একটি ঘরে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। দুই দিন ধরে তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।
স্বজনদের দাবি, ভুক্তভোগী রিপনকে খুঁজতে যাওয়া স্থানীয় আরও দুই যুবককেও আটক করে রাখেন অভিযুক্ত রিপন ও তাঁর সহযোগীরা। পরে প্রশাসন, পুলিশ ও রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য
জানতে চাইলে ভুক্তভোগী মো. রিপন বলেন, ছাগলের ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় তিনি বর্তমানে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। ধারদেনায় জর্জরিত থাকায় তিনি পাওনা টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। এ কারণে তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে শিকলে বেঁধে দুই দিন ধরে মারধরসহ নির্যাতন করা হয়েছে। তাঁকে দুই দিন খাবারও দেওয়া হয়নি।
পুলিশের পদক্ষেপ
অভিযুক্ত রিপন পলাতক। তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে। তাই অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। জানতে চাইলে চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল হাসান বলেন, ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য তাঁকে তুলে নিয়ে শিকলে বেঁধে আটকে রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



