ফোসকা ত্বকের একটি সাধারণ সমস্যা, যা নানা কারণে হতে পারে এবং বেশ যন্ত্রণাদায়ক। তবে সাধারণত এটি বিপজ্জনক নয়। ফোসকা হওয়ার পর কিছু ভুলের কারণে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে, যেমন সংক্রমণ। তাই ফোসকা হলে কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয়, তা জানা জরুরি।
ফোসকা হলে করণীয়
ফোসকার জায়গাটি যতটা সম্ভব পরিষ্কার রাখুন। তবে ধোয়া ও মোছার সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন। ধোয়ার পর একটি পরিষ্কার, শুকনা ও নরম তোয়ালে বা কাপড় দিয়ে আলতোভাবে চাপ দিন (ইংরেজিতে যাকে ‘প্যাট ড্রাই’ বলা হয়)। এভাবে জায়গাটি মোছার কাজ শেষ করুন।
নরম ড্রেসিং দিয়ে ফোসকা ঢেকে রাখা ভালো। প্যাড–জাতীয় ড্রেসিং ব্যবহার করতে পারেন। হাইড্রোকলয়েড ড্রেসিং (ভেজা ড্রেসিং) ফোসকার জন্য ভালো। এই ড্রেসিংয়ের উপকরণ কিনে নিতে পারেন, তবে প্রয়োগের আগে অবশ্যই ব্যবহারবিধি জেনে নিন। প্রয়োজনে দক্ষ ব্যক্তির সহায়তা নিন।
ফোসকা ফেটে গেলে ওই স্থান স্পর্শ করার আগে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করে নিন, নইলে জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে। ফোসকা ফেটে গেলে ভেতরের তরল বের হয়ে যেতে দিন, তারপর নরম ড্রেসিং দিয়ে ঢেকে রাখুন।
ফোসকা হলে যা করবেন না
নিজে থেকে এমন কিছু করবেন না যাতে ফোসকা ফেটে যায়। এমনকি জায়গাটি পরিষ্কার করার সময় জোরে ঘষা বা চাপ দেওয়া যাবে না। ফোসকা ফেটে গেলে বাকি অংশ টেনে তোলার চেষ্টা করবেন না।
যে জিনিস ব্যবহারের কারণে ফোসকা হয়েছে (যেমন জুতা বা ভারী যন্ত্রের হাতল), ফোসকা সারার আগে তা আর ব্যবহার করবেন না।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
ফোসকায় তীব্র ব্যথা হলে, বারবার ফোসকা হলে, ফোসকায় জীবাণুর সংক্রমণ হলে, তেমন কোনো কারণ না থাকা সত্ত্বেও অনেকগুলো ফোসকা হলে, আগুন বা গরম কোনো কিছুর কারণে ফোসকা হলে, রোদে পুড়ে যাওয়ার কারণে ফোসকা হলে, অ্যালার্জির কারণে ফোসকা হলে, অথবা অস্বাভাবিক কোনো জায়গায় (যেমন মুখের ভেতর, চোখের পাতা বা জননাঙ্গ) ফোসকা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সংক্রমণ হলে কীভাবে বুঝবেন
সংক্রমণ হলে ফোসকার ভেতর হলুদ বা সবুজ পুঁজ জমে থাকে। বাইরে থেকে দেখেই বোঝা যায় ফোসকার ভেতরের তরল স্বচ্ছ নয়। এ ক্ষেত্রে ফোসকার জায়গাটি উষ্ণ মনে হতে পারে এবং চারপাশের ত্বক লালচে হয়। সংক্রমণ হলে দ্রুত চিকিৎসা না করালে ত্বকে এমনকি রক্তেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ফোসকা প্রতিরোধের উপায়
অনেক সময় নতুন জুতার কারণে ফোসকা হয়। তাই আরামদায়ক ও পায়ের আকৃতির সঙ্গে মানানসই জুতা বেছে নিন। নতুন জুতা প্রথমে অল্প সময়ের জন্য পরে অভ্যস্ত হোন, তারপর লম্বা সময়ের জন্য ব্যবহার করুন।
ব্যায়াম বা খেলাধুলার সময় পুরু মোজা পরুন, যা ত্বকের ঘাম শোষণ করে বাইরের দিকে সরিয়ে নেয়। পা অতিরিক্ত ঘামলে দ্রুত মোজা বদলান। কোনো সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে হাতে ঘষা বা চাপ লাগার আশঙ্কা থাকলে গ্লাভস পরুন।
আগুন ও উত্তপ্ত যেকোনো জিনিস থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ এগুলো শুধু ফোসকাই নয়, মারাত্মক জটিলতাও সৃষ্টি করতে পারে। কোনো কিছুতে অ্যালার্জি থাকলে তা এড়িয়ে চলুন।
সূত্র: ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস, যুক্তরাজ্য



