অননুমোদিত অনুপস্থিতি: সহকারী পুলিশ সুপার আফজালুন নেছা বরখাস্ত
অননুমোদিত অনুপস্থিতি: এএসপি আফজালুন নেছা বরখাস্ত

দীর্ঘদিন অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশ না নিয়ে পলাতক থাকার অভিযোগে শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আফজালুন নেছাকে সরকারি চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর স্বাক্ষর করা এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনের বিবরণ

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আফজালুন নেছা (বিপি-৮৬১৪১৭৩৮৩৫) ময়মনসিংহ জেলায় সাবেক শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং সর্বশেষ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকায় সংযুক্ত থাকা অবস্থায় পলাতক রয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ

নথি সূত্রে জানা যায়, আফজালুন নেছা ৩৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি গত ২০১৭ সালের ২ মে ওরিয়েন্টেশন কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্থান প্রতিবেদন দাখিল করলেও কোর্স শেষে আর মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশ নেননি। এর মধ্যে তার অনুকূলে ২০১৭ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছিল, যা ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল শেষ হয়। তবে ছুটি শেষ হওয়ার পরও তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেননি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরবর্তীতে পুলিশ অধিদপ্তর থেকে তাকে ৩৬তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের সঙ্গে ২০১৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য মনোনয়ন দেওয়া হলেও তিনি তাতে অংশ নেননি এবং অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকেন।

বিভাগীয় মামলা ও তদন্ত

অনুমোদনহীন দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা কোনো জবাব দেননি।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৯ মে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর জমা দেওয়া প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে ‘চাকরি থেকে বরখাস্তকরণ’ সূচক গুরুদণ্ড প্রদানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে তিনি ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই তার জবাব দেন। কিন্তু জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় এবং অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।

পিএসসি ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন

এরপর বিধি মোতাবেক বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হলে চলতি বছরের ৮ জুন পিএসসিও তাকে বরখাস্তের পক্ষে মত দেয়। সর্বশেষ গত ৬ জুলাই নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এই বরখাস্তের আদেশে অনুমোদন প্রদান করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর দায়ে প্রমাণিত অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আফজালুন নেছাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলো এবং এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ মহাপরিদর্শকসহ (আইজিপি) সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।