জুবা লীগ নেতার ফেসবুকে মিথ্যা পোস্ট: আদালত অবমাননায় দুই মাস কারাদণ্ড
জুবা লীগ নেতার ফেসবুক পোস্টে আদালত অবমাননা, দুই মাস কারাদণ্ড

আদালত অবমাননায় জুবা লীগ নেতার দুই মাস কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে ফেসবুকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক দাবি করে পোস্ট দেওয়ায় জুবা লীগ নেতা এমএইচ পাটোয়ারী বাবুকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রবিবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।

ফেসবুক পোস্টে গুরুতর অভিযোগ

এমএইচ পাটোয়ারী বাবু তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে দাবি করেন যে, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসি নিশ্চিত করতে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা বিনিময় হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই-আগস্ট মাসে এই টাকা আদান-প্রদান করা হয়েছে। পোস্টটিতে তিনি বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনিরের ছবি সংযুক্ত করেন।

আদালতের কঠোর পদক্ষেপ

ট্রাইব্যুনাল আগেই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং পোস্টটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। ৭ এপ্রিল আদালত অবমাননার অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেয়। শনিবার বাবু ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পোস্টে আরও বিতর্কিত দাবি

তার পোস্টে আরও দাবি করা হয়, ট্রাইব্যুনালের সিসিটিভি ফুটেজ সরানো হয়েছে এবং কম্পিউটার হার্ড ড্রাইভ পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া তিনি বলেন, সাবেক প্রসিকিউটর দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। বাবু লিখেন, সংশ্লিষ্টরা যদি বিচার ছাড়া পালাতে সক্ষম হয়, তবে বর্তমান সরকার পূর্ণ দায়িত্ব বহন করবে। তিনি বাংলাদেশের সংবিধানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সামাজিক মাধ্যমের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া

এই পোস্টটি ফেসবুকে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। প্রায় ৬ হাজার ৭০০ রিয়্যাকশন, ১ হাজার ৩০০ কমেন্ট এবং ১ হাজার ৯০০ বার শেয়ার হয় পোস্টটি। ট্রাইব্যুনালের আদেশে বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান চালায়, কিন্তু অভিযুক্তকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আদালতের সতর্ক বার্তা

এই রায় সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে আদালতের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো ও অবমাননার বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়। ট্রাইব্যুনালের পদক্ষেপ দেখায় যে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচার ও মিথ্যা অভিযোগের জন্য আইনী শাস্তি অবধারিত। এই ঘটনায় আদালতের মর্যাদা রক্ষায় কঠোর অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ কর্মকাণ্ডে নিরুৎসাহিত করতে পারে।