এমএইচ পাটোয়ারী বাবুর আত্মসমর্পণ: ফেসবুক পোস্টে ১২ হাজার কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) আত্মসমর্পণ করেছেন এমএইচ পাটোয়ারী বাবু। তিনি ফেসবুকে একটি পোস্টে অভিযোগ করেছিলেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাথে ১২ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। রবিবার তিনি ট্রাইব্যুনালে হাজির হন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও আদালতের নির্দেশ
এর আগে, তার ফেসবুক পোস্টের সাথে জড়িত আদালত অবমাননার অভিযোগ আমলে নিয়ে আইসিটি এমএইচ পাটোয়ারী বাবুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষকে সেই পোস্টটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেয়।
এই আদেশটি ৭ এপ্রিল বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে আইসিটি-১ এর একটি বিচারিক প্যানেল জারি করে। পোস্টে পাটোয়ারী বাবু সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, সাবেক প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির এবং বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন। তিনি তাদের ছবিও পোস্টে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন বলে জানা যায়।
পোস্টের অভিযোগ ও প্রভাব
পাটোয়ারী বাবু আরও অভিযোগ করেন যে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি মামলার সাথে বিভিন্ন দেশ ও গোষ্ঠী থেকে প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। তিনি দাবি করেন যে, সিসিটিভি ফুটেজ সরানো হয়েছে এবং কম্পিউটার হার্ড ড্রাইভ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া তিনি ইঙ্গিত দেন যে, কিছু কর্মকর্তা দেশত্যাগের চেষ্টা করতে পারেন।
এই ফেসবুক পোস্টটি ব্যাপক সাড়া ফেলে বলে জানা গেছে। পোস্টটি প্রায় ৬,৭০০ লাইক, ১,৩০০ কমেন্ট এবং ১,৯০০ শেয়ার পায়।
পুলিশের অভিযান ও পরবর্তী অবস্থা
ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর, বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হোসেন জোহার নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান চালায়। তবে অভিযুক্তকে সেখানে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে প্রসিকিউটর জানান।
প্রসিকিউটর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই বিষয়ে একটি শুনানি পরে অনুষ্ঠিত হবে। এমএইচ পাটোয়ারী বাবুর আত্মসমর্পণের পর এখন আইনি প্রক্রিয়া চলছে। আদালত অবমাননার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে কৌতূহল রয়েছে।



