অস্ত্র আইনে শরীফ ওসমান হত্যা মামলার আসামি ফয়সাল করিমের ১০ বছরের কারাদণ্ড
ফয়সাল করিমের ১০ বছরের কারাদণ্ড, অস্ত্র আইনে দোষী সাব্যস্ত

অস্ত্র আইনে শরীফ ওসমান হত্যা মামলার আসামি ফয়সাল করিমের ১০ বছরের কারাদণ্ড

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদকে অস্ত্র আইনের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মহসীন এই গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করেন। গত রবিবার (৫ এপ্রিল) মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন। মামলায় ফয়সাল করিম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে, যা বিচার প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছিল।

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য ও আইনি প্রক্রিয়া

রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এ মামলার সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আদালত ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন। রায়ের কপি পেলে আমাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে, তা জানা যাবে।” তার মতে, এই রায় অপরাধ দমনে একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠাবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।

মামলার পটভূমি ও অভিযোগের বিবরণ

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় র‍্যাব-২। তখন পালানোর চেষ্টাকালে ফয়সাল করিমকে আটক করা হয়। তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে র‍্যাব, যা অস্ত্র আইনের লঙ্ঘনের স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে কাজ করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ ঘটনায় পরদিন আদাবর থানায় ফয়সাল করিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করেন র‍্যাবের হাবিলদার মশিউর রহমান। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ফয়সাল করিম এলাকার চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং মাদক কেনাবেচার হোতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি, খুন-জখম এবং জমি দখলসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। অপরাধ সংঘটনের জন্য তিনি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিজের কাছে রেখেছিলেন, যা সামাজিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল।

তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম

তদন্ত শেষে ফয়সাল করিমকে অভিযুক্ত করে গত বছরের ২৮ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন আদাবর থানার উপ-পরিদর্শক জাহিদ হাসান। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৪ জনের মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন, যা অভিযোগগুলিকে জোরদার করেছে। গত বছরের ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ফয়সাল করিম এ মামলায় জামিনে ছিলেন। এরপর ওসমান হাদি হত্যার ঘটনার পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এর মধ্যে গত মাসে তিনি ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন, যা তার আন্তর্জাতিক স্তরে পলায়নের চেষ্টা নির্দেশ করে।

এই মামলাটি অস্ত্র আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের রায় সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির গুরুত্ব তুলে ধরেছে।