ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্সের প্রতিবাদ: বিচারকদের শোকজ ও অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে
ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্সের প্রতিবাদ: বিচারকদের শোকজ বিরোধিতা

ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্সের তীব্র প্রতিবাদ: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–সমর্থিত আইনজীবীদের সংগঠন ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স (এনএলএ) আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অধস্তন আদালতের কিছু বিচারককে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনটি সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা প্রকাশ করেছে।

বিচারকদের শোকজ নিয়ে সংসদ সদস্যের বক্তব্য

বিকেলে জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, তিনি যখন সংসদে কথা বলছিলেন, তখন ২৮ জন বিচারককে তাঁদের ‘চ্যাট গ্রুপে’ ব্যক্তিগত মতামত দেওয়ার কারণে শোকজ করা হয়েছে। তবে কতজন বিচারককে শোকজ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। আইন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ তিন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একজন কর্মকর্তা কথা বলতে চাননি, আরেকজন বলেছেন তিনি জানেন না, এবং অন্য কর্মকর্তা ফোন ধরেননি।

আইনজীবীদের দাবি: শোকজ বেআইনি ও সংবিধানবিরোধী

সংবাদ সম্মেলনে ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক আইনজীবী আজমল হোসেন বলেন, ‘বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নির্বাহী উপায়ে ফ্যাসিস্ট আমলে প্রণীত একটি সার্কুলারের আলোকে শোকজ করা বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বিধিমালা ২০১৭ অনুসারে বেআইনি ও সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। আমরা এহেন শোকজকে বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের ভয় দেখানোর কৌশল মনে করছি।’ তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, অবিলম্বে বিচার বিভাগকে স্বাধীনতা দিয়ে বিচারকদের করা শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার করে বিচার বিভাগের ওপর এই নগ্ন হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয়ের দাবি

আজমল হোসেন হাইকোর্টের রায় অনুসারে অনতিবিলম্বে বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় করার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বর্তমান পরিস্থিতি তা হুমকির মুখে ফেলেছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যারা

সংবাদ সম্মেলনে ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব আইনজীবী খন্দকার এরশাদুল বারী, মুখ্য সংগঠক আইনজীবী সাকিল আহমাদ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আইনজীবী সাহাবুল বাশার, কেন্দ্রীয় সদস্য আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান ও আশরাফী সানজিদা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সকলেই এই সিদ্ধান্তগুলোর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং আইন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য জোরালো দাবি উত্থাপন করেছেন।

এই ঘটনা বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, যা আইন ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আলোচনাকে আরও তীব্র করে তুলছে। ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্সের এই প্রতিবাদ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার দিকে একটি সক্রিয় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।