দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
মিরপুর মডেল থানার দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় 'এক-এগারোর' আলোচিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রিমান্ড শুনানির প্রক্রিয়া
এদিন পল্টন মডেল থানার মামলায় তিন দফায় ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মিরপুর মডেল থানার হত্যা মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিনকে গ্রেফতার দেখানোসহ সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। পরে পুলিশ প্রহরায় তাকে আদালতে তোলা হয়।
প্রথমে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে রিমান্ড শুনানির জন্য আরেকটি আদালতে নেয়া হয়। এসময় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন।
তিনি বলেন, 'দেলোয়ার হত্যা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এজন্য মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার সাত দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করছি।' শুনানি শেষে আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে আসামিপক্ষে কোন আইনজীবী ছিলেন না।
মামলার পটভূমি
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হামলা চালানো হয়। আসামিরা বিভিন্ন দিক থেকে গুলি ছুড়তে থাকে। এতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ২১ জুলাই সকাল ৭ টা ৪০ মিনিটে মারা যান।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৬ জুলাই নিহত দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোছা. লিজা বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
গ্রেফতার ও পূর্ববর্তী রিমান্ড
উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ২৪ মার্চ পল্টন মডেল থানার মামলায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন আদালত। পরবর্তীতে গত ২৯ মার্চ দ্বিতীয় দফায় তার ফের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সর্বশেষ গত ৪ এপ্রিল তৃতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
এই রিমান্ডের মাধ্যমে পুলিশ তদন্তের জন্য অতিরিক্ত সময় পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে, যা আইনী প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



