জেল-জরিমানার বিধানসহ ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন-২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস
হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন পাস, জেল-জরিমানার বিধান

হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন পাস: জেল-জরিমানার কঠোর বিধান

জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন-২০২৬’, যা লঙ্ঘনের জন্য দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান সংযুক্ত করেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দশম দিনে এই বিলটি উত্থাপন করেন পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এই গুরুত্বপূর্ণ আইনটি অনুমোদন লাভ করে।

হাইকোর্টের নির্দেশনা ও আইনের পটভূমি

এই আইন প্রণয়নের পেছনে রয়েছে ২০২০ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়। উচ্চ আদালত জলাভূমি সুরক্ষা, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন দ্রুত প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই রায় কার্যকর করার জন্যই সংসদে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন-২০২৬’ বিল আনা হয়।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিস্তৃত হাওর ও জলাভূমি অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ একটি জরুরি বিষয়। ১৯৭৭ সালে ‘হাওর উন্নয়ন বোর্ড’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে হাওরকে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সেচব্যবস্থা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন এবং কৃষি সম্প্রসারণের আওতায় আনার চেষ্টা শুরু হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অধিদফতর প্রতিষ্ঠা ও আইনি কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা

পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদফতর প্রতিষ্ঠা করে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। তবে অধিদফতর প্রতিষ্ঠার পর হাওর অঞ্চলের অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়ন, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, নদীপথে বাধা সৃষ্টি, বিষ ও কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং পর্যটনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার জন্য আইনি কাঠামোর অপ্রতুলতা তীব্রভাবে অনুভূত হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া ২০২০ সালে বেলার করা রিট পিটিশনের রায়ে হাইকোর্ট জলাভূমি সুরক্ষা, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন দ্রুত প্রণয়নের নির্দেশ দেন।

আইনের মূল বিধান ও শাস্তির ব্যবস্থা

এই প্রেক্ষাপটে, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, মাহমান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা এবং হাওর ও জলাভূমি এলাকার পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্রের সংরক্ষণের জন্য ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন, ২০২৬’ বিলটি আইনে পরিণত করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছিল।

আইনের বিধান লঙ্ঘনের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে উভয় দণ্ডের অতিরিক্ত দণ্ড হবে না বলে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই বিধানগুলোর মাধ্যমে হাওর ও জলাভূমি অঞ্চলের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

এই আইন পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলাভূমি ব্যবস্থাপনায় একটি মাইলফলক স্থাপিত হলো। এটি ভবিষ্যতে হাওর অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।