সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ, রাষ্ট্রপতির আদেশে অব্যাহতি
সহকারী এজি'র বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ, অব্যাহতি

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ, অব্যাহতি

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দেশের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি আইনজীবীদের নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি, ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয় এই প্রক্রিয়ায়। কিন্তু, সম্প্রতি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) মো. আবুল হাসানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সুবিধা প্রদানের নামে এক বিচারপ্রার্থীর কাছ থেকে তিন কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর অনুবিভাগ তাকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

অভিযোগের বিবরণ ও অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য

অ্যাটর্নি অফিস সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এএজি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবুল হাসান। সোমবার (৬ এপ্রিল) জারি করা প্রজ্ঞাপনে অব্যাহতির কারণ উল্লেখ না করা হলেও, এক বিচারপ্রার্থী প্রতিষ্ঠানের থেকে কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ সম্বলিত দলিল বাংলা ট্রিবিউনের হাতে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্বয়ং অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আবুল হাসানের বিরুদ্ধে এক বিচারপ্রার্থীর কাছ থেকে তিন কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একটি মামলায় ওই বিচারপ্রার্থীর প্রতিষ্ঠানের ওপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ রয়েছে। সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে দেবেন, এমন আশ্বাসে টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রজ্ঞাপনের বিষয়বস্তু ও অব্যাহতির প্রক্রিয়া

প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবুল হাসানের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে এ বিভাগের ২০২৪ সালের ২৮ আগস্টের স্মারকে দেওয়া নিয়োগ আদেশ বাতিল করে তাকে ওই পদের দায়িত্ব হতে অব্যাহতি দেওয়া হলো। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দাখিল করা অভিযোগ অনুসারে, একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের জারি করা রুল ও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ থেকে তিন মাসের মধ্যে অব্যাহতি প্রদানের নিশ্চয়তা দিয়ে তিন কোটি ২০ লাখ টাকা নেন আবুল হাসান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযোগের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ ও তদন্ত

অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী, এক বছরেও কোনও কাজ না করায় মামলা অন্য আইনজীবীর মাধ্যমে পরিচালনার জন্য অনাপত্তিপত্র (এনওসি) ও টাকা ফেরত চাওয়া হয়। এর জেরে আবুল হাসান এনওসি দিলেও টাকা ফেরত দেননি। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হওয়ায় টাকা ফেরতের পদক্ষেপ নিতে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে অভিযোগ করেন ওই অভিযোগকারী। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল আরও বলেন, “কিছুদিন হলো আমি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি। দায়িত্ব গ্রহণের আগেই এই সংক্রান্ত অভিযোগ অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দাখিল করা হয়েছিল। অভিযোগের বিষয়টি আমার নজরে আনা হলে আমি আবুল হাসানের কাছে জানতে চেয়েছিলাম। তবে, তার কাছ থেকে সন্তোষজনক জবাব পায়নি।”

এই ঘটনা রাষ্ট্রীয় আইন বিভাগে দুর্নীতির একটি উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে এবং তা জনমনে প্রশ্ন তুলেছে। আইন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সকলের নজরে।