যশোরে বিচারকের বিরুদ্ধে নালিশকারী ব্যবসায়ীকে অর্থঋণ মামলায় গ্রেপ্তার
বিচারকের বিরুদ্ধে নালিশকারী ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

যশোরে বিচারকের বিরুদ্ধে নালিশকারী ব্যবসায়ীকে অর্থঋণ মামলায় গ্রেপ্তার

যশোর আদালতের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ রাশেদুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতা ব্যবহারের অভিযোগে নালিশি দরখাস্ত দাখিল করা ব্যবসায়ী শরিফুল আলমকে অর্থঋণের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আদালতের মাধ্যমে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে পুলিশ কখন, কোথা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা

ওই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার জানান, শরিফুল আলমের বিরুদ্ধে পরোয়ানা থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, "পরোয়ানা থাকায় শরিফুল আলমকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।"

ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার

শরিফুল আলম মেসার্স এস আলম ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। তিনি যশোর শহরের কাজীপাড়া এলাকার আবদুল আজিজ সড়কের বাসিন্দা। তাঁর একমাত্র ছেলে বরিশাল মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করছেন। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী আছেন, তবে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভাইয়ের বক্তব্য ও মামলার পটভূমি

শরিফুল আলমের ভাই আরিফুল আলম বলেন, "অর্থঋণের একটি মামলায় আমার ভাই শরিফুল আলমের বিরুদ্ধে আগেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। ওই মামলায় আজ পুলিশ তাঁকে আটক করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।" খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেসার্স এস আলম নামের প্রতিষ্ঠানের মালিক শরিফুল আলমের বিরুদ্ধে ব্যবসাসংক্রান্ত ঋণের বিষয়ে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি যশোর শাখা চেক জালিয়াতির একটি মামলা করেছে। মামলাটি যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিচারকের বিরুদ্ধে নালিশি দরখাস্ত ও আটকের অভিযোগ

আইনজীবীদের বরাতে জানা যায়, সোমবার যশোর আদালতের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ রাশেদুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতা ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহমুদা খানমের আদালতে নালিশি দরখাস্ত দাখিল করেন শরিফুল আলম। দরখাস্ত দাখিল করে বের হওয়ার সময় আদালত চত্বর থেকে পুলিশ তাঁকে আটক করে বলে অভিযোগ করেন আইনজীবীরা। তবে আটকের বিষয়টি পুলিশ তখন অস্বীকার করে।

আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য

যশোর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল গফুর জানান, বিচারক রাশেদুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের অভিযোগ তুলে ব্যবসায়ী শরিফুল আলম আদালতের জেলা ও দায়রা জজের কাছে নালিশি আবেদন করেন। তিনি বলেন, "রাশেদুর রহমান এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশ দিয়ে শরিফুল আলমকে আটক করান, যা নজিরবিহীন।"

ভাইয়ের প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্ররোচনা

বিচারকের বিরুদ্ধে নালিশি দরখাস্ত দাখিলের বিষয়ে শরিফুল আলমের ভাই আরিফুল আলম বলেন, "বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আমার ভাই শরিফুল আলম বোকার মতো কাজ করেছেন। আমি তো অবাক হচ্ছি। কারও প্ররোচনায় পড়েও তিনি এই অভিযোগ করতে পারেন।" এই ঘটনায় স্থানীয় আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে, যা যশোরের আইনি প্রক্রিয়া ও বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।