মানব পাচার মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
মানব পাচার মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর তিন দিনের রিমান্ড

মানব পাচার মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর তৃতীয় দফায় রিমান্ড মঞ্জুর

মানব পাচার আইনে করা মামলায় ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এ আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ডিবির উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান চার দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতে হাজির ও শুনানি প্রক্রিয়া

দ্বিতীয় দফায় ছয় দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে আদালতের হাজতখানা থেকে হাতকড়া ও মাথায় হেলমেট পরিয়ে কড়া পুলিশি পাহারায় তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে তাঁকে আবার হাজতখানায় নেওয়া হয়। এক-এগারোর অন্যতম প্রধান কুশীলব হিসেবে পরিচিত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গত ২৩ মার্চ রাতে তাঁর ঢাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য ও অভিযোগ

রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ড শুনানি করেন সৈয়দ গোলাম মুর্তুজা ইবনে ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম সরকার। আদালতে তাঁরা বলেন, এই আসামিরা সিন্ডিকেট করে দুই হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্সির কাছ থেকে কমিশন বাণিজ্য করে। কমিশন না দিলে তারা কাজ পেত না। এই সিন্ডিকেটের সবাই পলাতক তিনি ছাড়া। বাকি আসামিদের তথ্য জানার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। রাষ্ট্রপক্ষে দুই কৌঁসুলি আরও বলেন, এই আসামি এক-এগারেরা কুশীলব ছিলেন। টাকার নেশায় তিনি রিক্রুটিং এজেন্সি নিয়ে এই সিন্ডিকেট করেন। রিমান্ডে তিনি সব তথ্য দেননি। পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের জন্য চার দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আসামিপক্ষের যুক্তি ও আপত্তি

আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এ মামলায় আসামিকে দুই দফায় ১১ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনের ফরোয়ার্ডিং দেখলাম, সেখানে তদন্তসংক্রান্ত অগ্রগতির কিছুই লেখেননি।’ আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানতে পারছি, এটা মানব পাচার মামলা, কিন্তু এই তথ্য উদ্‌ঘাটন না করে তদন্ত কর্মকর্তা অন্য তথ্য উদ্‌ঘাটনে ব্যস্ত। আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধার করা—এটা রিমান্ডে নেওয়ার গ্রাউন্ড হতে পারে না।’

আসামির স্বাস্থ্য অবস্থা ও আইনজীবীর বক্তব্য

এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘এই লোকের বয়স ৭২ বছরের বেশি। মাইল্ড স্ট্রোক হওয়ার কারণে ব্রেনে সার্জারি করা হয়েছে। হার্টে দুইটা রিং পরানো। তবুও বারবার প্রেশার করে ওনাদের এক্সপেক্টেড কথাগুলো পাচ্ছেন না। মনমতো তথ্য পাচ্ছেন না বলে রিমান্ডের আবেদন করা হচ্ছে।’ উভয় পক্ষের শুনানির শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার পটভূমি ও অন্যান্য আসামি

সিন্ডিকেট করে অর্থ আত্মসাৎ ও মানব পাচারের অভিযোগে ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় এ মামলা করেন আফিয়া ওভারসিজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক আলতাব খান। এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ছাড়াও মামলায় সাবেক প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, আহমেদ ইন্টারন্যাশনালের মালিক ও সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদ এবং ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের মালিক মো. রুহুল আমীন স্বপনসহ ১০৩ জনকে আসামি করা হয়।