পিরোজপুরে ব্যবসায়ীকে নগ্ন ভিডিও ধারণ করে চাঁদা দাবির মর্মান্তিক ঘটনা
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় এক মোটরসাইকেল পার্টস ব্যবসায়ীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে নারীর সঙ্গে নগ্ন করে ভিডিও ধারণ ও মারধর করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ইসমাইলকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আদালত তাকে জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় পৌর শহরের নিউমার্কেট এলাকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. শহিদুল ইসলাম (৪৫) বর্তমানে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার শুরুতে, মিরুখালী বাজারের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে এক লক্ষ টাকার প্রয়োজন ছিল। তার দোকানের প্রতিবেশী পানের দোকানদার মনা তাকে লাভসহ টাকা এনে দেওয়ার আশ্বাস দেন। গত বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় শহিদুলকে টাকা দেওয়ার কথা বলে ইসমাইলের নিউ মার্কেটের বাসায় নিয়ে আসে।
বাসার দ্বিতীয় তলার কক্ষে প্রবেশ করা মাত্রই বিবাদীরা দরজা বন্ধ করে দেয়। সেখানে আগে থেকেই দুই জন অজ্ঞাত মহিলা ও দুই জন পুরুষ অবস্থান করছিল। তারা তাকে জোরপূর্বক উলঙ্গ করে ওই মহিলাদের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে।
মারধর ও চাঁদা দাবি
এরপর এলোপাতাড়ি মারধর ও কিলঘুষি মেরে শহিদুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। ওই ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। এসময় ইসমাইল শহিদুলের কাছে থাকা নগদ ৯,৫৪০ টাকা জোরপূর্বক কেড়ে নেয়।
প্রাণের ভয়ে শহিদুল তার বোনের কাছে ফোন করে টাকা চাইলেও তাৎক্ষণিক টাকা না দিতে পারায় আরও মারধর করে এবং ১৫০ টাকার সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা আটক রাখার পর শহিদুলের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল রেখে দিয়ে রাত আটটার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
গ্রেফতার ও আইনি পদক্ষেপ
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় শহিদুল মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। এ ঘটনায় শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মো. ইসমাইল ও মো. মনাকে (৪৭) নামীয় ও অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজন বিশ্বাস জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছেন এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, "অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।"
আটককৃত ইসমাইল উত্তর মিঠাখালী মাঝেরপুল গ্রামের মৃত সোনাইমুদ্দিন হাজীর ছেলে এবং আসামী মনা দাউদখালী ইউপির চালিতাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। এই ঘটনা পিরোজপুরে চাঁদাবাজির একটি উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।



