জামালপুরে কলেজ ছাত্রী অপহরণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২ লাখ টাকা জরিমানা
কলেজ ছাত্রী অপহরণে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২ লাখ টাকা জরিমানা

জামালপুরে কলেজ ছাত্রী অপহরণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জামালপুরের একটি আদালত বৃহস্পতিবার প্রায় পাঁচ বছর আগে একটি কলেজ ছাত্রী অপহরণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ (জেলা ও দায়রা জজ) এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এই রায় ঘোষণা করেন।

অভিযুক্তের পরিচয় ও রায়ের বিস্তারিত

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি মো. নাদিম আহমেদ, যিনি আপেল (২৫) নামেও পরিচিত, তিনি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার পশ্চিম বাঁশীবেলতাইল গ্রামের আরজু মিয়ার পুত্র। বিচারক নয়জন সাক্ষী এবং প্রাসঙ্গিক দলিল পরীক্ষা করার পর তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ধারা ৯(১) এর অধীনে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা দেন। একই আইনের ধারা ৭ এর অধীনে তাকে আরও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অতিরিক্ত ১ লাখ টাকা জরিমানা দেওয়া হয়। উভয় সাজা একসাথে চলবে, যা মোট ২ লাখ টাকা জরিমানার সমতুল্য।

জনপ্রসিকিউটরের বক্তব্য ও ঘটনার পটভূমি

জনপ্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক এই সাজা নিশ্চিত করে বলেন যে নাদিম আহমেদ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করবেন এবং সম্মিলিত জরিমানা দিতে বাধ্য হবেন। জনপ্রসিকিউটর মো. ফজলুল হকের মতে, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি মেলান্দহ উপজেলার একই এলাকার ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে হয়রানি করছিলেন। তার বাবা-মা তাকে রক্ষা করতে পরবর্তীতে জামালপুর শহরের একটি কলেজে স্থানান্তরিত করেন।

২০২১ সালের ৭ মার্চ, নাদিম মেয়েটিকে তার প্রাইভেট টিউটরের বাড়ি থেকে ফেরার পথে একটি মাইক্রোবাসে অপহরণ করে। পুলিশ ছয় দিন পর ঢাকায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে এবং নাদিমকে গ্রেপ্তার করে, পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। এই মামলাটি জনপ্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক দ্বারা পরিচালিত হয়, যখন প্রতিরক্ষা পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন অ্যাডভোকেট মো. কামাল হোসেন, যিনি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম জুলহাস, মো. নজরুল ইসলাম এবং হাবিবা সুলতানার সহায়তায় কাজ করেন।

এই রায়টি নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। আদালতের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তা ও আইনের শাসন জোরদার করতে সাহায্য করতে পারে, বিশেষ করে যুবতী শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে।