সালমান-আনিসুলের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ ২২ ফেব্রুয়ারি
আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ এ তারিখ নির্ধারণ করেছে, যা বিচারিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত ও শুনানি
আজ প্রসিকিউশন পক্ষের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের পর বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২২ ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেন। গত ১২ জানুয়ারি আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে এই মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল, যা ট্রাইব্যুনালের একটি তাৎপর্যপূর্ণ রায় ছিল।
ট্রাইব্যুনালে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী শুনানি পরিচালনা করেন, অন্যদিকে প্রসিকিউশন পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। গত ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন পক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে, যা পরে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আমলে নেওয়া হয়।
অভিযোগের বিবরণ ও পটভূমি
প্রসিকিউশন পক্ষের দাবি অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের মধ্যে ফোনালাপ হয়। এই আলোচনার একপর্যায়ে তারা কারফিউ চলাকালে আন্দোলনকারীদের "শেষ করে দিতে" বলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের এই বক্তব্যের পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতাকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
প্রসিকিউশন পক্ষের মতে, তাদের বক্তব্য সরাসরি হত্যাকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার কাজ করেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। গত বছরের ১৩ আগস্ট সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক গ্রেফতার হন এবং এরপর থেকে তারা কারাগারে রয়েছেন। এই মামলাটি দেশের আইনী ইতিহাসে একটি সংবেদনশীল ঘটনা হিসেবে রেকর্ড হয়েছে, যা ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার দাবিকে তুলে ধরছে।
সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হলে মামলার বিস্তারিত তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে, যা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি শক্ত করবে। এই মামলার ফলাফল বাংলাদেশের আইনী ব্যবস্থা ও মানবাধিকার রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।
