সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে আর বাধা নেই
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানায় দায়ের হওয়া আরও দুই মামলায় জামিন পেয়েছেন। ফলে তার মুক্তিতে আর কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

হাইকোর্টের আদেশ

মঙ্গলবার (১২ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু ও অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

পূর্ববর্তী জামিন

এর আগে গত ২৮ এপ্রিল জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত রায় জালিয়াতি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে ওই আদেশ দেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গত ৮ মার্চ বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল মঞ্জুর করে চার মামলায় খায়রুল হককে জামিন দেন। পরে ১১ মার্চ দুদকের মামলায়ও তিনি জামিন পান। তবে ওই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। এর মধ্যে নিম্ন আদালতে আরও দুই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। মঙ্গলবার সেই দুই মামলায়ও জামিন পান তিনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেফতার ও মামলা

গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে আটক করে পুলিশ। পরে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এ মামলার বাইরে তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে গত ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন মামলা করেন। এ ছাড়া একই অভিযোগে ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া এবং বন্দর থানায় নুরুল ইসলাম মোল্লা পৃথক মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে, প্লট জালিয়াতির মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে গত ৪ আগস্ট খায়রুল হকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুদক।

আইনগত প্রক্রিয়া

এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট পাঁচ মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন। ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এ বি এম খায়রুল হক। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তার নিয়োগ কার্যকর হয়। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান। পরে তিন দফায় আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।