দৈনিক যুগান্তরে ‘আদালতে ভুয়া ওয়ারেন্ট চক্রের ভয়ংকর দৌরাত্ম্য’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পর বিচার বিভাগ নড়েচড়ে বসেছে। বিষয়টি তদন্তে গঠিত জুডিশিয়াল কমিটি ১৩ দফা সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটি গঠন
গত ৩০ মার্চ মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজের নির্দেশে একটি তিন সদস্যের জুডিশিয়াল কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি ভুয়া ওয়ারেন্ট ইস্যু ও রেকর্ড জালিয়াতির অভিযোগ খতিয়ে দেখে। তদন্তে অনিয়ম ধরা পড়ে এবং কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়।
সুপারিশের বিস্তারিত
জুডিশিয়াল কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, রেজিস্টার যাচাই ছাড়া কোনো ওয়ারেন্ট গ্রহণ বা রিলিজ করা যাবে না। আদালতের কর্মচারী ছাড়া অন্য কেউ রিসিভ শাখায় ওয়ারেন্ট জমা দিতে পারবে না। জিআর শাখা সরাসরি কোনো ওয়ারেন্ট বিতরণ করতে পারবে না। এছাড়া ওয়ারেন্টের তথ্য নির্ধারিত ফরম্যাটে সংরক্ষণ ও সিডিএমএসে অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। অসম্পূর্ণ ওয়ারেন্ট ফেরত দিয়ে সঠিক নথি সংগ্রহের নির্দেশও রয়েছে।
ভুয়া ওয়ারেন্টের ঘটনা
চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত আটটি ভুয়া ওয়ারেন্টের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। একই সঙ্গে অতীতের ভুয়া ওয়ারেন্ট সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দ্রুত তদন্তের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা
ওয়ারেন্ট যাচাই করে সিডিএমএসে এন্ট্রি নিশ্চিত করা, আসামি এন্ট্রি ও রিলিজে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু এবং হাজতখানায় সিসি ক্যামেরার আওতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতি মাসে ওয়ারেন্ট ইস্যু ও রিলিজের হিসাব আদালতে দাখিলের কথাও বলা হয়েছে।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
সিএমএম আদালতের রেকর্ডকিপারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের তদারকি বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মতবিনিময় সভা
প্রতিবেদন পাওয়ার পর ৪ এপ্রিল মহানগর দায়রা জজ সংশ্লিষ্ট বিচারক, পুলিশ, আইনজীবী ও কারা কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা করেন। সেখানে সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।



