করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে ২০২০ সালে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় ‘ভার্চুয়াল কোর্ট’ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এজন্য ওই বছর ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০’ আইনও পাস করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ই এই ভার্চুয়াল কোর্টের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা শুরু হওয়ার পর ‘বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি’ বিবেচনায় প্রতি বুধবার ও বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে ভার্চুয়াল কোর্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে রবিবার (৩ মে) এক আদেশের মাধ্যমে এই কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
ভার্চুয়াল কোর্ট কী?
প্রশ্ন হলো, ভার্চুয়াল কোর্ট কী এবং কীভাবে কাজ করে? এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. খাদেমুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভার্চুয়াল কোর্ট হলো এমন একটি আদালত ব্যবস্থা যেখানে বিচার কার্যক্রম সরাসরি আদালত কক্ষে উপস্থিত না হয়ে অনলাইনের মাধ্যমে (ভিডিও কনফারেন্সিং, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম) পরিচালিত হয়। সহজভাবে বললে, আইনজীবী, বিচারক, আসামি বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করে শুনানিতে অংশ নেয়—এটাই ভার্চুয়াল কোর্ট।’
আইনি ব্যাখ্যা
‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০’-এর ২(ঙ) ধারা মতে, “ভার্চুয়াল উপস্থিতি” অর্থ অডিও-ভিডিও বা অনুরূপ অন্য কোনো ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির আদালতের বিচার বিভাগীয় কার্যধারায় উপস্থিত থাকা বা অংশগ্রহণ করাকে বোঝানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
২০২০ সালে করোনাকালে পাস হওয়া আইনটির ৩ ধারার ১ উপধারায় বলা হয়েছে, ‘ফৌজদারি কার্যবিধি বা দেওয়ানি কার্যবিধি বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে ভিন্নতর যা কিছুই থাকুক না কেন, যে কোনো আদালত, এই আইনের ধারা ৫ এর অধীন জারিকৃত প্র্যাকটিস নির্দেশনা (বিশেষ বা সাধারণ) সাপেক্ষে, অডিও-ভিডিও বা অন্য কোনো ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে বিচারপ্রার্থী পক্ষরা বা তাদের আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তি বা সাক্ষীদের ভার্চুয়াল উপস্থিতি নিশ্চিতক্রমে যে কোনো মামলার বিচার, বিচারিক অনুসন্ধান, দরখাস্ত, আপিল শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক গ্রহণ, আদেশ বা রায় দিতে পারবেন।’
সশরীরে উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা
আইনটির ৪ ধারায় বলা হয়েছে, ‘ধারা ৩ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির ভার্চুয়াল উপস্থিতি নিশ্চিত করা হলে ফৌজদারি কার্যবিধি বা দেওয়ানি কার্যবিধি বা অন্য কোনো আইনের অধীন আদালতে তাহার সশরীরে উপস্থিতির বাধ্যবাধকতার শর্ত পূরণ হয়েছে বলে গণ্য হবে।’



