আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিচারকের বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগ সরকারের এখতিয়ারের বাইরে। এই ধরনের অভিযোগ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল দেখবে।
ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর বক্তব্য
শনিবার রাজধানীর মোহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ঘটনায় জড়িত এক বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, 'এটি আইন মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়। সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ থাকলে তা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পরীক্ষা করবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় বা সরকারের কোনো ভূমিকা বা দায়িত্ব নেই।'
গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ
ব্র্যাক সেন্টারের অনুষ্ঠানটি ছিল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এবং ব্র্যাকের যৌথ গবেষণা উদ্যোগের ফলাফল প্রকাশনা উপলক্ষে। গবেষণাটি নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে পদ্ধতিগত বাধাগুলোর ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এবং সেগুলো মোকাবিলার উপায় অনুসন্ধান করে। আইনমন্ত্রী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ঘটনা
বিতর্কটি উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি শ্রেণীকক্ষের ঘটনা থেকে উদ্ভূত, যা পরে প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, ঘটনার পর একজন সেকেন্ডারি সেকশনের শিক্ষককে এক বিচারকের বাসায় ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়—যিনি একজন অভিভাবকও—এবং সেখানে তাকে অপমানিত করা হয়।
জবাবে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করে এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত হয়।
ঘটনার বিবরণ
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ঘটনাটি শুরু হয় ১৬ এপ্রিল দশম শ্রেণির বাংলা মাধ্যম দিন শিফটের একটি সেশনে। একজন শিক্ষার্থী পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষকের কাছে বাংলা বিষয়ে সাহায্য চায়। শিক্ষক তাকে বাংলার শিক্ষকের কাছে যেতে বলেন। শিক্ষার্থী আবার চাপ দিলে সে allegedly অসদাচরণ করে, যার জেরে শিক্ষক তাকে চড় মারেন।
শিক্ষক পরে শিক্ষার্থীর অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্কুলে সাক্ষাৎ করতে বলেন। তাকে স্কুল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ১৮ এপ্রিল অভিভাবকের বাসায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিষয়টি মীমাংসার আশায় তিনি আরেক শিক্ষকের সঙ্গে সেখানে যান। তবে সেখানে গিয়ে তিনি মানসিক নির্যাতনের শিকার হন বলে দাবি করেন।



