নিখোঁজ কলাবাগান থানার এসআই রাকিবুল হাসান সরকারের (৩২) সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। তবে, রাজধানী মতিঝিলের একটি ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা তুলেছেন তিনি। এর সূত্র ধরে তার সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চলছে। পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কোনও ঝামেলার কারণে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। গত ২৬ এপ্রিল রাত্রিকালীন ডিউটি করার কথা বলে থানা ভবনের ব্যারাক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর ফিরে আসেননি রাকিবুল।
ডিএমপির রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলম বলেন, “ব্যারাক থেকে বের হওয়ার সময় থেকেই এসআই রাকিবুলের মুঠোফোন বন্ধ দেখাচ্ছে। তবে, মাঝে একবার চক বাজার এলাকায় তার অবস্থানের বিষয়ে জানা যায়। এরপর থেকে আবারও তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। তবে, গতকাল শুক্রবার (১ মে) কমিউনিটি ব্যাংকের মতিঝিল এলাকার একটি বুথ থেকে তিনি পাঁচ হাজার টাকা তুলেছেন। ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তার প্রায় ৭০ থেকে ৭২ হাজার টাকা রয়েছে। এগুলো তার বেতনের টাকা।”
তিনি আরও বলেন, “টাকা তোলার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে বোঝা যায় যে, তিনি নিজ থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। যদি কোনও দুর্বৃত্ত ব্যাংক থেকে টাকা তুলতো তাহলে পুরো টাকাই তুলে নিতো।”
কলাবাগান থানার ওসি মো. ফজলে আশিক জানান, এসআই রাকিবুল হাসান গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাত্রিকালীন ডিউটির কথা বলে কলাবাগান থানা ভবনের ব্যারাক থেকে সাদা পোশাকে বের হন। পরে চা খেয়ে আবার ব্যারাকে ঢুকেন। নাইট ডিউটি আছে বলে রাত পৌনে ৮টার দিকে আবার সাদা পোশাকে ব্যারাক থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ। তাকে গরহাজির (অনুপস্থিত) হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্যারাক থেকে বের হওয়ার সময় তার সঙ্গে সরকারি অস্ত্র ছিল না জানিয়ে ওসি বলেন, তার সঙ্গে মুঠোফোন ও চার্জার ছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে ওই ঘটনায় কলাবাগান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তার বিষয়ে দেশের সব থানায় বেতারবার্তা পাঠানো হয়েছে।
রাকিবুলের বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাপতা গ্রামে। তার বাবা মাইজ উদ্দিন সরকার। রাকিবুল হাসানের স্ত্রী তাদের বাড়িতে থাকেন। ব্যক্তিগত বর্ণনায় জানা গেছে, রাকিবুলের গায়ের রং শ্যামলা, মুখমণ্ডল গোলাকার, উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি এবং চুল ছোট ও কালো।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি রাকিবুল হাসান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) বদলি হন। এর আগে তিনি আয়কর বিভাগে চাকরি করতেন। ওই চাকরি ছেড়ে তিনি সম্প্রতি পুলিশে যোগ দেন।
ডিএমপির নিউমার্কেট অঞ্চলের সহকারি পুলিশ কমিশনার মো. নাসিম বলেন, সহকর্মীদের সঙ্গে নিখোঁজ এসআইয়ের কোনও বৈরি সম্পর্ক ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কোনও কারণে তিনি আত্মগোপন করেছেন।



