কুষ্টিয়ায় পীর শামীম হত্যা: আরও এক কিশোর গ্রেপ্তার, আদালতে প্রেরণ
কুষ্টিয়ায় পীর শামীম হত্যা: আরও এক কিশোর গ্রেপ্তার

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তি ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর, যে স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে নেওয়া হলে আদালত তাকে শিশু–কিশোর পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক শেখ মো. আলী মর্তুজা প্রথম আলোকে জানান, ভিডিও ফুটেজে ওই কিশোরকে হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পূর্বের গ্রেপ্তার

এর আগে ঘটনার ১৯ দিন পর গত রোববার গভীর রাতে দুজনকে গ্রেপ্তার করে গতকাল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছিল পুলিশ। গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন দক্ষিণ–পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা বিপ্লব (২৬) ও আলিফ ইসলাম (২৩)। দরবারে হামলার সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করা হয়েছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার বিবরণ

পুলিশ জানায়, দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ–পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন—কয়েক বছর আগের ৩৬ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও ১০ এপ্রিল সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১১ এপ্রিল সকালে শামীমের দরবার থেকে আধা কিলোমিটার দূরে আবেদের ঘাট এলাকায় শতাধিক মানুষ জড়ো হন। এরপর দুপুরের পর তারা দরবারে হামলা চালান এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা

ঘটনার পর ১৩ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এজাহারে চারজনের নাম–পরিচয় উল্লেখ করা হয়। এতে প্রধান ও হুকুমের আসামি করা হয় স্থানীয় জামায়াত নেতা মুহাম্মদ খাজা আহমেদকে (৩৮)। তিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য। অন্য তিনজন হলেন দৌলতপুর উপজেলার হোসেনাবাদ (বিশ্বাসপাড়া) গ্রামের মো. আসাদুজ্জামান (৩৫), যিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি; দক্ষিণ–পশ্চিম ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার রাজীব মিস্ত্রি (৪৫); এবং ইসলামপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মো. শিহাব। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে।

তদন্ত অগ্রগতি

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেখ মো. আলী মর্তুজা প্রথম আলোকে বলেন, হামলার ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এরপর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। নিরীহ কোনো ব্যক্তিকে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না বা হবে না।