ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে দাদি ও ফুফুসহ তিনজনকে হত্যার ঘটনায় আকাশ মোল্লা (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র্যাব ও পুলিশের যৌথ দল। মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে বাড়ির পাশের লিয়াকতের কলাবাগান থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে রক্তমাখা একটি কোদাল উদ্ধার করা হয়।
আদালতে হাজির ও মামলা দায়ের
মঙ্গলবার দুপুরে অভিযুক্ত আকাশ মোল্লাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ ঘটনায় নিহত কাবুলের স্ত্রী কোহিনুর বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। জেলা পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
অভিযুক্তের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্যোগ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার আকাশ মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং তার মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা কোদাল উদ্ধার এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয়দের বক্তব্য
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত আকাশ মোল্লা ফরিদপুরে যক্ষ্মা নিরাময় কেন্দ্রে চাকরি করতেন। মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে তার চাকরি চলে যায়। গত কয়েক মাস ধরে তিনি বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই থাকতেন এবং মাঝে মাঝেই এদিক-সেদিক চলে যেতেন। তার বাবা ও পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজে এনে অনেক সময় ঘরে আটকে রাখতেন।
র্যাবের বক্তব্য
অভিযানে অংশ নেওয়া র্যাব-১০ ফরিদপুর ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার গাজী মো. লুৎফর রহমান বলেন, অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালানো হয়। তাকে ভোরে কলাবাগান থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল, যা তার মানসিক অবস্থার বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।
ওসির বক্তব্য
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করা হবে।
পুলিশ সুপারের বক্তব্য
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং আইনগত কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে পারিবারিক নানা কারণে হতাশা থেকে সে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার এই আচরণের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা পরিকল্পনা ছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার বিবরণ
সোমবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। আকাশ মোল্লা হঠাৎ ধারালো কোদাল দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার ফুপু রাহেলা বেগম (৫০), দাদি আমেনা বেগম (৭৫) ও প্রতিবেশী কাবুল (৪৫) নিহত হন। একই ঘটনায় রিয়াজ মোল্লা (৪৫) নামে আরেক প্রতিবেশী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।



