টঙ্গীতে প্রেমের দ্বন্দ্বে দুই ভাইকে হত্যা, বড় ভাই গ্রেপ্তার
টঙ্গীতে প্রেমের দ্বন্দ্বে দুই ভাইকে হত্যা, বড় ভাই গ্রেপ্তার

গাজীপুরের টঙ্গীর বনমালা এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় একই মেয়েকে নিয়ে দুই ভাইয়ের প্রেমের দ্বন্দ্বের জেরে ছোট ভাইকে হত্যা করে তারপর নেশাগ্রস্ত বাবার কাঁধে দায় চাপিয়ে রেললাইনে ফেলে তাকেও হত্যা করা হয়েছে। এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বড় ভাই সাইফুর রহমান (সোহান) গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ

গত শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে টঙ্গীর বনমালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রোববার সকালে স্থানীয়রা রেললাইনে দুটি লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সাইফুর রহমান তার বাবা সোহেল হোসেনকে ধরে রেললাইনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। এ থেকে সন্দেহের সৃষ্টি হলে সাইফুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন।

হত্যার কারণ ও পদ্ধতি

পুলিশ ও সাইফুরের স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, এক আত্মীয়ের মেয়ের সঙ্গে দুই ভাই সাইফুর ও সাকিবুরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে সাইফুর এক সহযোগীকে নিয়ে ছোট ভাই সাকিবুরকে দুই হাতের রগ কেটে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে তিনি তার নেশাগ্রস্ত বাবা সোহেলকে ধরে নিয়ে বাড়ি থেকে দুই-তিনশ ফুট দূরের রেললাইনে ফেলে দেন। সেখানে ট্রেনের আঘাতে সোহেল মারা যান। পরে সাইফুর স্বজনদের ফোন করে জানান, তার ছোট ভাইকে হত্যা করে বাবা আত্মহত্যা করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তি

এ ঘটনায় নিহত সোহেলের বোন শিরিন সুলতানা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ সাইফুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। আজ সোমবার বিকেলে তাকে গাজীপুর চিফ জুডিশিয়াল মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বায়েজিদ নেওয়াজ বলেন, মামলায় কাউকে আসামি করা হয়নি, তবে তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে সাইফুরের জড়িত থাকা নিশ্চিত হওয়া যায়।

নিহতদের পরিচয়

নিহতরা হলেন টঙ্গীর বনমালা এলাকার বাসিন্দা সোহেল হোসেন (৫২) ও তার ১৮ বছর বয়সী ছেলে সাকিবুর রহমান (শোয়েব)। সাকিবুর রাজধানীর উত্তরায় একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি তেজগাঁওয়ে বেঙ্গল ফুড নামে একটি দোকানে চাকরি করতেন। সোহেল একসময় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় প্রবাসী ছিলেন, পরে দেশে ফিরে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। বছরখানেক আগে তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। গ্রেপ্তার সাইফুর রহমান একটি ওষুধ কারখানায় কাজ করতেন।