ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি শুক্রবার বলেছেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা খাস জমি প্রকৃত ভূমিহীন মানুষের মধ্যে বিতরণে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি আশ্বাস দেন যে, কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় ৪০-৪৫ বছর ধরে বসবাসকারী দরিদ্র পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হবে।
পাবনাপাড়ায় উচ্ছেদ প্রসঙ্গে মন্ত্রীর বক্তব্য
শুক্রবার নগরের পদ্মা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভূমিমন্ত্রী সম্প্রতি নওদাপাড়া এলাকার পাবনাপাড়া মহল্লায় পরিত্যক্ত সম্পত্তি দখল ও উচ্ছেদ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, 'উচ্ছেদ করতে হলে অন্তত ছয়-সাত দিনের নোটিশ দিতে হবে। তা না করে হঠাৎ করে ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলা—মানুষ হিসেবে আমি সেটাকে অত্যন্ত অন্যায় মনে করি।'
দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ব্যর্থতা
ভূমিমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী দায়িত্বে থাকা কিছু কর্মকর্তার ব্যর্থতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অসহায় ও নিঃস্ব মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাঁর নৈতিক দায়িত্ব, যা তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ।
জবরদখলকারীদের সমালোচনা
আলাপকালে মন্ত্রী আগের সরকারের আমলের স্থানীয় জমি দখলকারীদের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আগের সরকারের সময় জমি দখলকারীরা সরকারি সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করেছিল। জমি দখলকারীদের দ্বারা মিথ্যা মামলা ও হয়রানি প্রতিরোধে শক্তিশালী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি স্থানীয় আইনজীবীদের একটি প্যানেল গঠনের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগত আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন।
খাস জমি বন্দোবস্তের উদ্যোগ
ভূমিমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে প্রতিটি পরিবারকে এক থেকে দুই কাঠা জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর আগে সকাল ১০টায় ভূমিহীনরা মন্ত্রীর বাসভবনের সামনে তিন দফা দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট ও আমরণ অনশন শুরু করে। পরে মন্ত্রী তাদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে পানি পান করিয়ে তাদের অনশন ভঙ্গ করেন।



