হত্যাসহ ডজনখানেক মামলার আসামি নাসিকের সাবেক কাউন্সিলর গ্রেফতার
হত্যাসহ ডজনখানেক মামলার আসামি সাবেক কাউন্সিলর গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে হত্যাসহ ডজনখানেক মামলার আসামি ও নাসিক ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

সিরাজুল ইসলাম মণ্ডলের পরিচয়

সিরাজুল ইসলাম মণ্ডল বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় ডজনখানেক মামলা হলেও তিনি এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।

পলাতক থেকে গ্রেফতার

পুলিশ জানায়, গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই সিরাজুল ইসলাম মণ্ডল পলাতক ছিলেন। সম্প্রতি তিনি এলাকায় প্রকাশ্যে বিচরণ শুরু করেন। এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা এবং চোরাই তেলের সিন্ডিকেট পুনরায় নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি এমদাদুল হকের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার বিবরণ

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো এবং মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে সিরাজুল ইসলাম মণ্ডলের বিরুদ্ধে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অন্তত ৯টি মামলাসহ প্রায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে।

অবৈধ তেল ব্যবসা ও সম্পদ

বিগত আওয়ামী লীগ আমলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের এসও এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম এবং অবৈধ জ্বালানি তেলের ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি যৌথবাহিনী তার গোডাউন থেকে ৯ হাজার ১০০ লিটার অবৈধ জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক জানান, সিরাজুল ইসলাম মণ্ডলের বিরুদ্ধে আমরা এ পর্যন্ত ৯টি মামলা পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে দেশের আর কোনো থানায় মামলা আছে কিনা খোঁজ নিয়ে দেখছি।

স্থানীয়দের দাবি

উল্লেখ্য, গত ১৭ বছরে সিরাজ মণ্ডল নারায়ণগঞ্জ ও রায়েরবাগসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১২ থেকে ১৫টি ফিলিং স্টেশনের মালিক হয়েছেন। তার এই বিপুল সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।