বরিশালে প্রেমিকাকে বাড়িতে ডেকে এনে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের মুনসি গ্যারেজ এলাকার একটি বাড়ি থেকে ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত ও অভিযুক্তের পরিচয়
নিহত সানজিদা কবির অনিতা (২১) বরিশাল বিএম কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত যুবকের নাম মইনুল ইসলাম হিমু (৩০)। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার শাহিন হাওলাদারের মেয়ে সানজিদা কবির তাঁর মায়ের সঙ্গে বরিশাল নগরের মুনসির গ্যারেজ এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। ওই এলাকার অপর একটি ভাড়া বাড়িতে মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন ঝালকাঠির মিল্টন আকনের ছেলে মইনুল ইসলাম। একই এলাকায় বসবাসের সুবাদে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
নিহত সানজিদা কবিরের মামা মিশু সিকদার জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বড় বোনের বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন সানজিদা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর বড় বোন সানজিদাকে ফোন করলে তা বন্ধ পান। পরে বিষয়টি মিশু সিকদারকে জানালে তিনি ফোন ট্র্যাক করে ওই বাড়ির অবস্থান পান। সেখানে গিয়ে তাঁর ভাগ্নিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
পারিবারিক অভিযোগ
মিশু সিকদার বলেন, ‘হত্যাকারী মইনুল ইসলাম এর আগেও ঝালকাঠিতে এক প্রেমিকাকে হত্যা করেছে। ওই ঘটনায় ঝালকাঠি আদালতে একটি হত্যা মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এটা জানার পর আমার ভাগ্নিকে এই সম্পর্ক থেকে সরে আসার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু আজ তাকেও একই পরিণতি বরণ করতে হলো। আমরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
অভিযুক্তের মায়ের বক্তব্য
অভিযুক্ত মইনুল ইসলামের মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে সানজিদার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে সে আমাদের বাসায় আসে। পরে মইনুলের কক্ষে সানজিদার লাশ দেখে আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। তখন মইনুল বাসা থেকে পালিয়ে যায়। কীভাবে কী হয়েছে, তা আমি বলতে পারছি না।’
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম ফরেনসিক দলের সদস্যদের বরাত দিয়ে বলেন, তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালো ছোপ ছোপ দাগ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ফরেনসিক দলের সদস্যদের ধারণা সানজিদাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।



