জামায়াত আমিরের রামিসার বিচার দাবি
অতি দ্রুত রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশু রামিসার হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আগামী ৭ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। ওই দিনই শুধু রামিসার জন্য নয়, এ দেশের প্রতিটি মেয়ের বাবা, দাদা ও নানা হয়ে আমি দাঁড়াবো, ইনশাআল্লাহ। লড়াই চলবে, এ লড়াইয়ে মানবতার বিজয় হবে।
সোমবার (১ জুন) জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রামিসার বাবা-মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জামায়াত আমির। পরে বাইরে এসে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রামিসার বাসায় গিয়ে আশ্বস্ত করেছেন, ১৫ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করবেন। আমরা দেখতে চাই প্রধানমন্ত্রীর কমপক্ষে এ ওয়াদাটা শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে। এটি যদি বাস্তবায়ন হয়, সারাদেশের ১৮ কোটি মানুষ খুশি হবে, উনার জন্য দোয়া করবে। আমরা উনার জন্য দোয়া করতে চাই, দেখতে চাই ১৫ দিনে এ বিচার সম্পন্ন হবে।’
বিচার বিভাগ সঠিকভাবে কাজ করলে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে বিচার সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, অন্তত বিচারিক আদালতের কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব। তারপরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ রায়কে কার্যকর করার জন্য হাইকোর্টে পাঠাতে হবে। বিরোধীদলীয় নেতা অনুরোধ করেন, আত্মস্বীকৃত এ ধরনের অপরাধীর পক্ষে কোনো আইনজীবী যেন আদালতে না দাঁড়ায়। আমি আহ্বান জানাবো, এ বিষয়টি নিয়ে কেউ যেন কোনো ধরনের রাজনীতি না করেন। এটা আমাদের ইজ্জত বাঁচানোর লড়াই।
যদি বিচার সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হয় এবং রায় কার্যকর না করা হয়, এ মেয়ে আমাদের ক্ষমা করবে না। হাশরের দিন আমরা সবাই আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যাবো। আমরা সেই আসামি হতে চাই না। বিচারের নামে অবিচার, দীর্ঘসূত্রতা এবং বিচারের নামে তামাশা— এসব ঘটনার মূল কারণ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, এসব কারণে বিচারের প্রতি মানুষের কোনো আস্থা নেই। আমাদের বিচারের প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ধরনের হস্তক্ষেপের কারণে। আমরা চাই এ সংস্কৃতি থেকে বিচার বিভাগ বের হয়ে আসুক। বিচার বিভাগ শতভাগ স্বাধীন হোক। ন্যায়বিচার করুক।
তিনি বলেন, আত্মস্বীকৃত ধর্ষণকারী ও হত্যাকারীদের বিচার দীর্ঘায়িত হওয়া মানেই তাদের সহযোগিতা করা এবং অন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। এসময় শফিকুর রহমানের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কর্নেল আবদুল বাতেন প্রমুখ।



