রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা এক হত্যা মামলায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার (২৩ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।
আদালতে শুনানি
এর আগে, গত ১৬ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. ইব্রাহিম খলিল খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছিলেন। আদালত খায়রুল হকের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য শনিবার দিন ধার্য করেন। আবেদনে বলা হয়, এই মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি তিনি, বর্তমানে জেল-হাজতে আটক আছেন। তদন্তকালে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক স্বাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখাানো একান্ত প্রয়োজন।
আসামিপক্ষের আপত্তি
আসামিপক্ষের আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন গ্রেফতারের বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতকে বলেন, খায়রুল হকের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী গ্রেফতারের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি যুক্তিতর্কে উল্লেখ করেন, ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বিভিন্ন সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে। এজাহারে নাম না থাকলেও তথ্যকারী কর্মকর্তার তদন্তে খায়রুল হক জড়িত রয়েছেন। এজাহারের চেয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার তদন্ত গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই বিচারপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তুলে দিয়ে স্বৈরশাসক প্রতিষ্ঠা করেছেন। শেখ হাসিনা তাকে পুরস্কার হিসেবে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বানিয়েছেন, যদিও এটি ছোট উপহার।
আসামিপক্ষের জবাব
আসামিপক্ষের আইনজীবী রিপ্লাইয়ে আদালতকে জানান, সাবেক এ বিচারপতির বয়স ৮১ বছর, তিনি এই বয়সে আন্দোলন দমাতে রাস্তায় নামতে পারেন না। তিনি সব সময় পুলিশ পাহারায় থাকতেন, তাহলে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটাতে পারেন? অর্থাৎ কোনোভাবেই ঘটনার সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত নন। এছাড়া এর আগে আপিল বিভাগ থেকে সাতটি মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন এবং তাকে হয়রানি না করার আদেশ রয়েছে।
আদালতের রায়
আদালত আধা ঘণ্টার শুনানি শেষে সাবেক বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
মামলার বিবরণ
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন খোবাইব (২০)। যাত্রাবাড়ী ওভারব্রিজের নিচে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করাকালে মামলার আসামিদের নির্দেশে ও মদদে পুলিশ, র্যাবসহ অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারীরা একসঙ্গে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিত গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে খোবাইব ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় মৃতের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর মামলাটি দায়ের করেন। এতে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়।
পূর্বের ঘটনা
এর আগে, গত ১৭ মে আসামি হিসেবে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে গ্রেফতার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পৃথক পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় গত ৩০ মার্চ খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানো হয়। এভাবে গ্রেফতার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে ১৩ মে রিটটি করেন খায়রুল হকের ছেলে আইনজীবী আশিক উল হক।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ জুলাই বিচারপতি খায়রুল হককে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।



