জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় সোহেলী তামান্নাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মামলায় তাকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আদালতের আদেশ
পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে শনিবার (২৩ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুজ্জোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তদন্তের অগ্রগতি
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক মো. আমিনুর রহমান গত ১৫ মে সন্দিগ্ধ আসামি হিসাবে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজ শনিবার দিন নির্ধারণ করেছিলেন।
আবেদনে বলা হয়, তদন্তে পাওয়া তথ্যে সন্দিগ্ধ আসামির ঘটনাস্থলে উপস্থিতি এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া ভাটারা থানা এলাকার আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাকে একাধিকবার উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলতে দেখা গেছে বলে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
তদন্তে আরও প্রতীয়মান হচ্ছে যে, তিনি মামলার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এ অবস্থায় তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে আটক রাখা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পলাতক হওয়ার আশঙ্কা
আবেদনে আরও বলা হয়, আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হওয়ার এবং মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটানোর আশঙ্কা রয়েছে। তাই সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে জেলহাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।
মামলার বিবরণ
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে শিক্ষার্থীদের কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ বলে আখ্যায়িত করলে শিক্ষার্থীরা দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন।
অভিযোগে বলা হয়, ছাত্র-জনতার আন্দোলন প্রতিহত করতে এ মামলার আসামিসহ এজাহারভুক্ত আসামিরা মরিয়া হয়ে ওঠেন এবং দলীয় নেতাকর্মী, পুলিশ, বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেন।
হামলার ঘটনা
বাদী সোহেলী তামান্না কোটাবিরোধী আন্দোলন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতি নৈতিক সমর্থন জানিয়ে মিছিলে অংশ নেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে ভাটারা থানার বাড্ডা এলাকায় অবস্থানকালে আসামিদের নেতৃত্ব ও নির্দেশে অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ৩০০ জন আওয়ামী সন্ত্রাসী লাঠি, লোহার রড, হকিস্টিক ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।
এসময় আসামিদের ছোড়া গুলিতে বাদীর বাম হাতের কব্জিতে গুরুতর আঘাত লাগে। এছাড়া আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি পিঠের পেছনে বিদ্ধ হলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
এ ঘটনায় বাদীর বাম হাতের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী সোহেলী তামান্না এ ঘটনায় বাদী হয়ে ভাটারা থানায় মামলা করেন।
খাদিজার গ্রেফতার
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর খাদিজা ইয়াসমিনকে কুমিল্লা থেকে আটক করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। পরে রাতে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।



