কারা ফটকে সন্তান রেখে কারাগারে যাওয়া মা ফারহানা জামিন পেলেন
কারা ফটকে সন্তান রেখে কারাগারে যাওয়া মা জামিন পেলেন

লক্ষ্মীপুরে মারামারি মামলায় দুই শিশুসন্তানকে কারা ফটকে রেখে দেড় বছর বয়সী শিশুকে কোলে নিয়ে কারাগারে যাওয়া ফারহানা আক্তার জামিন পেয়েছেন। আজ বুধবার বিকেলে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন তাঁর আইনজীবী মহসিন কবির।

জামিনের শুনানি ও আদালতের সিদ্ধান্ত

আইনজীবী মহসিন কবির জানান, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে আজ সকালে ফারহানা আক্তারের জামিনের আবেদন করা হয়। দুপুরে জামিনের শুনানি হয়। মামলার বাদী এজাহারে তাঁর মাথা ফেটে মগজ বের হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। আইনজীবী আদালতকে জানান, যদি এমন হতো, তাহলে তাঁর আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলা করার শারীরিক সক্ষমতা থাকত না। পরে শুনানি শেষে বিকেল চারটার দিকে বিচারক শাহ জামাল জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন।

মামলার পটভূমি

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌর এলাকার ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়ার জমি নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরে গত ৯ এপ্রিল আফতাব কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ইসমাইলের বাড়িতে হামলা করেন। এ সময় ইসমাইলের পরিবারের নারী সদস্যদেরও মারধর করেন তিনি। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে তাঁদের সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর প্রতিপক্ষ ইসমাইল হোসেন মামলা করলে ১৪ এপ্রিল পুলিশ আফতাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ১৫ এপ্রিল ফারহানা আক্তারসহ ১০ জনকে আসামি করে আরও একটি মামলা করেন আফতাব উদ্দিনের ভাই মাহাতাব উদ্দিন ভূঁইয়া। ওই মামলায় গত সোমবার লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফারহানা আক্তার হাজিরা দিতে গেলে আদালত তাঁকে ও আরও এক আসামিকে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কারাগারে যাওয়া অপর আসামির নাম জহির উদ্দিন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের অবস্থা

ফারহানা আক্তারের স্বামী ইসমাইল হোসেন বলেন, তাঁদের তিনটি সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে দেড় বছর বয়সী ছোট ছেলেটি মায়ের সঙ্গে কারাগারে রয়েছে। আর স্কুলপড়ুয়া অপর দুই সন্তান এখন বাড়িতে। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে সন্তানেরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। মায়ের জামিনের খবরে সন্তানরা স্বস্তি ফিরে পেয়েছে।

বাদীর বক্তব্য

জানতে চাইলে মামলার বাদী মাহাতাব উদ্দিন ভূঁইয়া মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসামিদের আক্রমণে আমি মাথায় বড় ধরনের আঘাত পেয়েছি। বেশ কয়েক দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। এ ঘটনায় মামলা করি। পরে চিকিৎসকদের কাছে জেনেছি, মাথা ফেটে মগজ বের হয়নি, সেটি চর্বি ছিল।’