রাশিয়ায় হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধের চেষ্টা: মেটার তীব্র অভিযোগ ও ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের নতুন অধ্যায়
রাশিয়ায় জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ পুরোপুরি বন্ধের চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ, এমন অভিযোগ তুলেছে অ্যাপটির মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে, যেখানে মেটার দাবি অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য দেশটির এক কোটিরও বেশি ব্যবহারকারীকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রিত একটি অ্যাপে সরিয়ে নেওয়া।
ক্রেমলিনের প্রতিক্রিয়া ও আইনি বাধ্যবাধকতার প্রশ্ন
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, মেটা যদি রুশ আইন মেনে সংলাপে আসে, তাহলে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন, আইন না মানলে তাদের “কোনো সুযোগ নেই”। রাশিয়ার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা রসকমনাদজোর ইতোমধ্যে টেলিগ্রাম অ্যাপের ওপরও নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা তুলে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপের কথা জানিয়েছে।
রাশিয়ার দাবি, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম দুই প্ল্যাটফর্মই ব্যবহারকারীদের তথ্য দেশে সংরক্ষণের আইনি বাধ্যবাধকতা মানেনি। তবে হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষ থেকে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, ১০ কোটির বেশি ব্যবহারকারীকে নিরাপদ ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করা মূলত পেছন দিকে হাঁটারই শামিল।
২০২৬ সালের নিষেধাজ্ঞা ও পূর্ববর্তী নিষিদ্ধকরণের ইতিহাস
রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ হতে পারে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা নির্দেশ করে, যা ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়। ২০২২ সালে মেটাকে ‘চরমপন্থী সংগঠন’ ঘোষণার পর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম রাশিয়ায় নিষিদ্ধ হয়; সেগুলো এখন কেবল ভিপিএনের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়।
ডিজিটাল অধিকারকর্মীরা বলছেন, রসকমনাদজোর ধীরে ধীরে বিভিন্ন জনপ্রিয় ওয়েবসাইটকে জাতীয় ডোমেইন সিস্টেম থেকে সরিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে:
- ইউটিউব, বিবিসি, ডয়চে ভেলে সহ বহু সাইট ভিপিএন ছাড়া খোলা যাচ্ছে না।
- হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েবও এর বাইরে নয়, যা ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
রাষ্ট্রীয় অ্যাপ ‘ম্যাক্স’ ও নাগরিকদের ওপর চাপ
সমালোচকদের মতে, মস্কো নাগরিকদের রাষ্ট্র-উন্নীত ‘ম্যাক্স’ অ্যাপ ব্যবহারে বাধ্য করতে চাইছে, যেখানে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সাল থেকে নতুন ডিভাইসে এই অ্যাপ প্রি-ইনস্টল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদেরও এটি ব্যবহারে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে খবর রয়েছে, যা ডিজিটাল স্বাধীনতার উপর আরও বিধিনিষেধের ইঙ্গিত দেয়।
টেলিগ্রামের প্রধান নির্বাহীর সতর্কবার্তা
টেলিগ্রামের প্রধান নির্বাহী পাভেল দুরভ অভিযোগ করেছেন, রাষ্ট্রীয় নজরদারি ও রাজনৈতিক সেন্সরশিপ জোরদার করতেই এই বিধিনিষেধ। তার ভাষ্যমতে, “নাগরিকের স্বাধীনতা সীমিত করা কখনোই সঠিক সমাধান নয়”। এটি একটি স্পষ্ট বার্তা যে, এই পদক্ষেপগুলি ডিজিটাল অধিকার ও গোপনীয়তার উপর সরাসরি আঘাত হানছে।
এই ঘটনাটি রাশিয়ার ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা তুলে ধরছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা, তথ্যের গোপনীয়তা ও ইন্টারনেট স্বাধীনতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে।
