অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার: তিনজন গ্রেফতার, সিআইডির অভিযান
অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচারে তিনজন গ্রেফতার

অনলাইন বেটিং (জুয়া) ও অর্থপাচারের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে জুয়া ও অর্থপাচারের মতো অপরাধকর্মে ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও চেকবই জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. আলা উদ্দিন (৪২), শাহাদাৎ হোসেন (৩২) ও মো. সাহাব উদ্দিন (৪৮)। শনিবার (২৩ মে) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

অনলাইন জুয়ার চক্রের কার্যক্রম

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কিছু চক্র বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট বাংলাদেশে অবৈধভাবে চালাচ্ছে বলে দেখতে পায় সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার মনিটরিং সেল। এসব সাইটে জুয়াড়িরা মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট, নগদ), ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে টাকা লেনদেন করছিল। এ ঘটনায় সিআইডি বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় একটি মামলা করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলাটি তদন্তকালে কর্মকর্তারা দেখতে পান, দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নামে অনলাইন বেটিং এবং জুয়ার ওয়েবসাইট চালাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিতভাবে এসব জুয়ার সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থ লেনদেনের পদ্ধতি

তদন্তে কর্মকর্তারা আরও জানতে পারেন, জুয়ার সাইটগুলোতে অংশ নেওয়ার জন্য ব্যবহারকারীদের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ জমা দিতে হতো। জমাকৃত অর্থের বিপরীতে ব্যবহারকারীদের বেটিং অ্যাকাউন্টে ই-মানি বা বট মানি যুক্ত করা হতো, যা পরবর্তীতে অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত হতো। চক্রটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এমএফএস এজেন্ট নম্বর এবং ব্যাংক হিসাব ব্যবহার ও পরিবর্তন করতো। পরবর্তীতে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সেগুলো জুয়ার সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে পাঠাতো।

অর্থপাচার ও আইনি ব্যবস্থা

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হচ্ছিল। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করেছে। তা সত্ত্বেও কিছু অনলাইন গ্যাম্বলিং চক্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান ওই নির্দেশনা না মেনে এই অপরাধ করছিল। পরে সিআইডির একটি চৌকস দল চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা অনলাইন বেটিং ও অবৈধ অর্থ লেনদেন চক্রের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। মামলার তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন ও অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।