অনলাইন জুয়া চক্রের ৮ সদস্য গ্রেফতার, দিনে কোটি টাকা পাচার
অনলাইন জুয়া চক্রের ৮ সদস্য গ্রেফতার, দিনে কোটি টাকা পাচার

আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতাসহ ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

অর্থ পাচারের পদ্ধতি

সিআইডি বলছে, এই চক্রটি অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনার মাধ্যমে দিনে ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা অবৈধ ইনকাম করত। যা হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো। বিগত ৬ মাস যাবত চক্রটি এই জুয়ার সাইট পরিচালনার মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার করে আসছে।

গ্রেফতারকৃতরা

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ (৩২), সজীব চক্রবর্তী (২৯), মো. আশরাফুল ইসলাম (৪০), মো. জসীম উদ্দীন (৩৬), তৈয়ব খান (২৬), সৌমিক সাহা (২৮), মো. কামরুজ্জামান (৩৬), আব্দুর রহমান (৪৭)।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সিআইডির বক্তব্য

রবিবার (১৭ মে) রাজধানীর মালিবাগ সিআইডি হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডি পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করে আসছিল। এসব সাইটে জুয়াড়িরা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা— বিকাশ, রকেট ও নগদ, বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করতো। পরবর্তী সময়ে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযানের বিবরণ

সিআইডি’র সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার মনিটরিং সেল নিয়মিত অনলাইন নজরদারির সময় দেখতে পায় যে, কিছু চক্র বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট বাংলাদেশে অবৈধভাবে পরিচালনা করছে। এই প্রেক্ষিতে পল্টন মডেল (ডিএমপি) থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে একটি মামলা করা হয়। পরে গত ৬ মে সিআইডি’র একটি দল ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মো. আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ, সঞ্জীব চক্রবর্তী, মো. আশরাফুল ইসলাম ও মো. জসীম উদ্দীনকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার নরসিংদী জেলার পলাশ থানা এবং ঢাকার ধানমন্ডি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের আরও ৪ সদস্য তৈয়ব খান (২৬), সৌমিক সাহা (২৮), মো. কামরুজ্জামান (৩৬) ও আব্দুর রহমানকে (৪৭) গ্রেফতার করা হয়।

জব্দকৃত আলামত

এই চক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান দুটিতে সিআইডি’র সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ডিভাইস ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করেছে। জব্দকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে মোট ১৩টি মোবাইল ফোন, যার মধ্যে প্রথম অভিযানে ৭টি এবং দ্বিতীয় অভিযানে ৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মোট ২০টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অভিযানে ২টি এজাহারভুক্ত বিকাশ এজেন্ট সিম এবং দ্বিতীয় অভিযানে ১৮টি বিভিন্ন অপারেটরের সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। অভিযান চলাকালে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ২টি নির্দিষ্ট কাস্টমার কপিসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভুয়া এজেন্ট সিম পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কুরিয়ার রশিদও জব্দ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

অর্থ ফেরতের প্রচেষ্টা

পাচার হওয়া অর্থ ফেরতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সিআইডি বিএফআইইউ ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো ওয়ালেট শনাক্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।