প্রথম প্রান্তিকে স্মার্টফোন বাজারে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে অ্যাপল
বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে অ্যাপল। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের নতুন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে অ্যাপলের আইফোন বৈশ্বিক বাজারের ২১ শতাংশ দখল করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের ১৯ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্র্যান্ড স্যামসাং, যাদের বাজার হিস্যা ২০ শতাংশে স্থিতিশীল রয়েছে।
বাজারে অ্যাপলের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি
প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আইফোনের সরবরাহ ৫ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, বৈশ্বিক স্মার্টফোন সরবরাহ সামগ্রিকভাবে প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। অ্যাপলের এই সাফল্যের পেছনে ২০২৫ সালে তাদের সরবরাহ ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বের সর্বোচ্চ স্মার্টফোন সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অন্যান্য শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলোর অবস্থান
চীনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ড শাওমির বাজার হিস্যা ১ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ১৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং তাদের সরবরাহ ১৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা শীর্ষ পাঁচ ব্র্যান্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ পতন। অপ্পোর বাজার হিস্যা ১১ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকলেও তাদের সরবরাহ ৪ শতাংশ কমেছে। ভিভোর বাজার হিস্যা ১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে ৮ শতাংশ হয়েছে, যদিও তাদের সরবরাহ মাত্র ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আইফোন, স্যামসাং, শাওমি, অপ্পো ও ভিভো ছাড়া অন্যান্য ব্র্যান্ডগুলোর বাজার হিস্যা ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে, গত বছর যা ছিল ২৯ শতাংশ।
বাজারে চাপের কারণসমূহ
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথম প্রান্তিকে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজার চাপের মধ্যে ছিল। এর প্রধান কারণ হিসেবে মেমোরি চিপের (র্যাম ও স্টোরেজ) ঘাটতি উল্লেখ করা হয়েছে, যা উৎপাদন ব্যাহত করছে। জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক শিল্পী জৈন ব্যাখ্যা করেন, মেমোরি নির্মাতারা ভোক্তা ইলেকট্রনিকসের পরিবর্তে এআই ডেটা সেন্টারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, ফলে সরবরাহ সীমিত হচ্ছে। এছাড়া জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, লজিস্টিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ভোক্তাদের নতুন ডিভাইস কেনার আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে।
দাম-সংবেদনশীল বাজারে প্রভাব
বিশ্লেষক আরও উল্লেখ করেন, মেমোরি চিপের ঘাটতি ও খরচ বৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে দাম-সংবেদনশীল সেগমেন্টে, যেমন কম ও মধ্যম দামের স্মার্টফোনে। অ্যাপলের মতো প্রিমিয়াম ডিভাইস নির্মাতারা স্থিতিশীল থাকলেও ভলিউমনির্ভর চীনা ব্র্যান্ডগুলো, বিশেষ করে দাম-সংবেদনশীল বাজারগুলোতে, বেশি পতনের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রিফার্বিশড বা সংস্কার করা স্মার্টফোনের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সামগ্রিক সরবরাহ আরও কমিয়ে দিয়েছে।



