অ্যাপলের ৫০ বছর: তিনটি বিপ্লবী পণ্য ও কিছু ব্যর্থতার গল্প
অ্যাপলের ৫০ বছর: বিপ্লবী পণ্য ও ব্যর্থতার গল্প

অ্যাপলের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: একটি প্রযুক্তি বিপ্লবের ইতিহাস

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল ১ এপ্রিল ২০২৪ সালে তার ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। স্টিভ জবস, স্টিভ ওজনিয়াক এবং রোনাল্ড ওয়েনের হাতে গড়া এই প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক প্রযুক্তি জগতে এক অনন্য স্থান দখল করে নিয়েছে। অ্যাপলের তৈরি তিনটি আইকনিক পণ্য—আইপড, আইফোন এবং অ্যাপল ওয়াচ—মানবজীবনের ডিজিটাল অভিজ্ঞতাকে আমূল পরিবর্তন করেছে। এই বিশেষ দিনে জেনে নেওয়া যাক সেই পণ্যগুলোর গল্প এবং প্রতিষ্ঠানটির কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যর্থতার কথা।

আইপড: সঙ্গীত শোনার ধরন বদলে দেওয়া যন্ত্র

২০০১ সালে অ্যাপল আইপড বাজারে আনে, যা কেবল একটি এমপিথ্রি প্লেয়ার ছিল না, বরং এটি ডিজিটাল মিউজিক ডাউনলোডকে মূলধারায় নিয়ে আসার পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে। আইপডের আইটিউনস লাইব্রেরি ব্যবহারকারীদের গান শোনার অভ্যাস সম্পূর্ণরূপে বদলে দেয়, যার ফলে ব্যক্তিগত সঙ্গীত সংগ্রহ একটি নতুন মাত্রা পায়। এই যন্ত্রটি অ্যাপলের প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয় এবং প্রতিষ্ঠানটিকে প্রযুক্তি শিল্পে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যায়।

আইফোন: স্মার্টফোন বিপ্লবের সূচনা

২০০৭ সালে অ্যাপল আইফোন বাজারে আনে, যা স্টিভ জবস একটি ফোন, একটি আইপড এবং একটি ইন্টারনেট কমিউনিকেটরের সংমিশ্রণ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। আজ প্রতি সেকেন্ডে পৃথিবীতে প্রায় সাতটি আইফোন বিক্রি হয় এবং এটি অ্যাপলের ইকোসিস্টেমের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আইফোন শুধু যোগাযোগের মাধ্যমই নয়, বরং এটি মোবাইল প্রযুক্তি, অ্যাপ উন্নয়ন এবং ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অ্যাপল ওয়াচ: পরিধানযোগ্য প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত

২০১৫ সালে অ্যাপল ওয়াচ বাজারে আনা হয়, যা টিম কুকের নেতৃত্বে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া স্মার্টওয়াচে পরিণত হয়েছে। এই ঘড়িটি কেবল সময় দেখার যন্ত্র নয়; বরং ইসিজি মনিটরিং এবং ডিটেকশনের মতো ফিচারের মাধ্যমে পরিধানযোগ্য স্বাস্থ্য প্রযুক্তিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহারকারীদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং ফিটনেস ট্র্যাকিংকে সহজলভ্য করে তুলেছে।

অ্যাপলের কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যর্থতা

অ্যাপলের ইতিহাসে সব প্রচেষ্টাই সফল হয়নি। ১৯৮৩ সালে অ্যাপল লিসা কম্পিউটার প্রকাশ করে, যা গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত দামের (তৎকালীন ১০ হাজার ডলার) কারণে ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হয়। তবে এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরে ম্যাকিনটোশ তৈরি করে। ২০১৫ সালে ল্যাপটপের পুরুত্ব কমাতে গিয়ে অ্যাপল বাটারফ্লাই কিবোর্ড ডিজাইন উন্মুক্ত করে, কিন্তু এটি টাইপ করার ক্ষেত্রে অস্বস্তিকর এবং স্থায়িত্বের অভাবের কারণে ব্যাপক সমালোচিত হয়। শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালে অ্যাপল এটি বাদ দিতে বাধ্য হয়।

২০২৪ সালে অ্যাপল ভিশন প্রো বাজারে আনে, একটি মিক্সড রিয়েলিটি হেডসেট যার দাম ৩ হাজার ৫০০ ডলার এবং আধেয় সহজলভ্য না হওয়ায় এটি অ্যাপলপ্রেমীদের কাছে প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি। সমালোচকদের মতে, স্টিভ জবসের সময়ে অ্যাপল ছিল ভিশনারি উদ্ভাবনের সমার্থক, কিন্তু বর্তমান সিইও টিম কুকের অধীনে প্রতিষ্ঠানটি অনেক বেশি লাভজনক হয়েছে এবং বিদ্যমান প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। অনেক অ্যাপলপ্রেমী এখনো সেই পুরোনো উদ্ভাবনী অ্যাপলকে মিস করেন, যা সরাসরি স্টিভ জবসের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মিশে ছিল।