সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন ডিউটিরত ছাত্রীদের ইভটিজিং করাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় ও ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন ইন্টার্ন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, যারা বর্তমানে হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার বিবরণ
গত বুধবার দুপুরে হাসপাতালের আউটডোর বিল্ডিংয়ের নিচতলায় সার্জিক্যাল মাইনর ওটির (অপারেশন থিয়েটার) ড্রেসিং রুমে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে ইন্টার্ন ডিউটিরত বেসরকারি নার্সিং কলেজের দুই ছাত্রীকে হাসপাতালের আউটসোর্সিং স্টাফ ও ওয়ার্ড বয় জামাল এবং অঞ্জন সরকার প্রায়ই উত্ত্যক্ত ও অশোভনীয় আচরণ করতেন। ভুক্তভোগী ছাত্রীরা বিষয়টি তাদের ইন্টার্ন অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের জানালে মো. তাহমিদ ও প্রীতম রঞ্জন দাশের নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্র মাইনর ওটির ড্রেসিং রুমে গিয়ে নার্সিং স্টাফ মো. জাহাঙ্গীরের কাছে এ বিষয়ে কথা বলতে যান।
সংঘর্ষ ও আহত
কথাবার্তার একপর্যায়ে ওয়ার্ড বয় জামাল উত্তেজিত হয়ে উঠলে উভয়পক্ষের মধ্যে তুমুল হট্টগোল ও মারামারি শুরু হয়। মারামারির সময় ওটি রুমের কাচ ও বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী ভাঙচুর হয় এবং তিন ইন্টার্ন শিক্ষার্থী আহত হন। আহতরা হলেন- সুরমা নার্সিং কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তাহমিদ (২১), আল-আমিন নার্সিং কলেজের ছাত্র রবিউল আউয়াল শুভ (২৩) এবং ওয়েসিস নার্সিং ইনস্টিটিউটের ডিপ্লোমা ইন নার্সিংয়ের ছাত্র প্রীতম রঞ্জন দাস (২৩)।
প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ
ঘটনার প্রতিবাদে এবং আহতদের বিচার দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। বিক্ষোভ শেষে তারা হাসপাতালের পরিচালকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
প্রতিক্রিয়া
ওসমানী হাসপাতালের স্টাফ নার্স ও বিএনএ সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদ বলেন, "কোনো কিছু হলেই আগে নার্সদের ওপর হামলা হয়। আগে রোগীর স্বজনরা হামলা করতেন, এখন হাসপাতালে কর্মরত ওয়ার্ড বয়রা করছেন।" চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে কাজ করার কথা উল্লেখ করে তিনি এ হামলার সঠিক তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ) ডা. মোহাম্মদ বদরুল আমিন বলেন, "ঘটনার পরপরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে মূল ঘটনা জানা যাবে।"



