কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার কমলেও ব্যবসা ও বাণিজ্য খাতে তা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত বছরের জুনে ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণ ছিল ৬ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে বাণিজ্য ও ব্যবসা খাতের অংশ ছিল ৩৩ শতাংশ। চলতি বছরের মার্চে মোট খেলাপি ঋণ কিছুটা কমে ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ালেও ব্যবসা ও বাণিজ্য খাতে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ দশমিক ২০ শতাংশ।
শিল্প খাতকে ছাড়িয়ে গেছে বাণিজ্য খাত
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগে শিল্প খাতে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ ছিল, কিন্তু এখন বাণিজ্য ও ব্যবসা খাত সেই জায়গা দখল করেছে। গত বছরের জুনে মোট খেলাপি ঋণের মধ্যে শিল্প খাতে ছিল ৪২ শতাংশ, যা মার্চে কমে ৩১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, বাণিজ্য ও ব্যবসা খাতে খেলাপি ঋণের হার ৩৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৩ দশমিক ২০ শতাংশ হয়েছে। পরিমাণগতভাবেও এই খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে।
বড় ঋণগ্রহীতাদের খেলাপি হার বেড়েছে
প্রতিবেদনের আরেকটি তথ্য উদ্বেগজনক। ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়া গ্রাহকদের মধ্যে খেলাপির হার আগে ছিল ৩০ শতাংশ, যা এখন বেড়ে ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, বড় ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে খেলাপি হওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আমদানি এলসির আড়ালে টাকা পাচার
সংশ্লিষ্টরা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লুটপাটের বড় অংশই হয়েছে আমদানির বিপরীতে। আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে, কিন্তু দেশে পণ্য আসেনি। পণ্যের দায় বিদেশে পরিশোধ করা হয়েছে, ফলে এলসির আড়ালে দেশ থেকে টাকা পাচার হয়েছে। ওই সব ঋণ এখন খেলাপি হচ্ছে।
শিল্প খাতে খেলাপি ঋণ কমেছে
শিল্প খাতে খেলাপি ঋণ কমার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশির ভাগ খেলাপি ঋণ বিশেষ ছাড়ে নবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক শিল্প সচল রাখতে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়ায় খেলাপি ঋণ কমেছে।
কৃষি খাতে সবচেয়ে কম খেলাপি ঋণ
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে কম খেলাপি ঋণ কৃষি খাতে, যা মোট খেলাপি ঋণের ২৭ শতাংশ। বাকি খেলাপি ঋণ অন্য খাতে ছড়িয়ে আছে।



