এআই মডেল আমারা: বাস্তবতা ও অবাস্তবতার সীমারেখা লীন হয়ে যাচ্ছে
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বাস্তব আর অবাস্তবের মধ্যে যে সূক্ষ্ম পার্থক্য ছিল, তা ক্রমেই মিলিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি মডেল আমারা। প্রচলিত ধারণায় একজন আবেদনময়ী নারীর যেসব বৈশিষ্ট্য থাকার কথা, তার সবকিছুই আমারা চরিত্রে বিদ্যমান।
আমারা কে? পরিচয় ও পটভূমি
ইনস্টাগ্রামে আমারা নামে পরিচিত এই মডেলটির নামটি আরবি ভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে, যার অর্থ সুন্দরী বা শক্তিশালী নারী। তার ছবিতে প্রায়ই বিশ্ববিখ্যাত সুপারমডেলদের যেমন বেলা হাদিদ, জিজি হাদিদ, কাইলি জেনার এবং কার্ডাশিয়ান পরিবারের সদস্যদের দেখা যায়। এমনকি রিয়ানার সঙ্গেও তার ছবি শেয়ার করা হয়েছে, যা দেখে সহজেই বাস্তব বলে ভ্রম হতে পারে।
আমারার একটি বিস্তারিত ব্যাকগ্রাউন্ডও তৈরি করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, তার জন্ম নাইজেরিয়ায় এবং বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে কাজ করছেন। তাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে মায়ের সঙ্গে ছবিও তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে দাবি করা হয়, তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্ট, ফিল্ম ও ভিজ্যুয়াল স্টোরি বিষয়ে ২০২৬ সালে স্নাতক করেছেন এবং তার বয়স ২২ বছর।
একটি কাল্পনিক চরিত্রের বাস্তব জীবন
আসলে আমারা সম্পূর্ণরূপে একটি এআই-জেনারেটেড চরিত্র। ইনস্টাগ্রামে তার অ্যাকাউন্টে নিয়মিত পোস্ট দেখা যায়, যেখানে তাকে ছুটির দিনে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় খেতে, রাস্তায় ছবি তুলতে, পার্টি করতে এবং এমনকি বিড়াল ভালোবাসতে দেখা যায়। একটি বাস্তব মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সমস্ত কার্যকলাপই তার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
আমারাকে মূলত একজন অনলাইন কসপ্লে আর্টিস্ট হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যিনি বিভিন্ন চরিত্রে সেজেগুজে উপস্থিত হন। পাশাপাশি তিনি মডেলিংও করেন। এই চরিত্রটি তৈরি করেছেন কিছু ব্যক্তি, যারা আমাকে এভাবেই সামাজিক মাধ্যমে উপস্থাপন করে চলেছেন।
সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব ও আয়ের উৎস
আমারার সামাজিক মাধ্যম উপস্থিতি বেশ শক্তিশালী। তার প্রতিটি ভিডিওতে গড়ে ৩ থেকে ৪ মিলিয়ন ভিউ হয়। টিকটকে তার অনুসারীর সংখ্যা ৪ লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে, অন্যদিকে ইনস্টাগ্রামে অনুসারী ৮৯ হাজারের বেশি। এই জনপ্রিয়তা তাকে আর্থিকভাবে লাভবান করছে।
প্রতি ভিডিও থেকে আমারা গড়ে ৫ থেকে ৭ হাজার ডলার আয় করে। তার মাসিক আয় ৮০ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৮ লাখ টাকার সমান। বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ১ মিলিয়ন ডলার বা ১২ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। প্রতিষ্ঠিত সুপারমডেলদের চেহারা ব্যবহার করে এবং এআই প্রযুক্তির সহায়তায় এই কাল্পনিক চরিত্রের পেছনের ব্যক্তিরা কোটি কোটি টাকা উপার্জন করছেন।
বিতর্ক ও প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ
এ ধরনের কার্যক্রম নিয়ে নৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাস্তবের মতো কাল্পনিক চরিত্র তৈরি করে আয় করার এই পদ্ধতি অনেকের কাছেই প্রশ্নবিদ্ধ। তবে এটি স্পষ্ট যে, প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবতা ও কাল্পনিকতার মধ্যে পার্থক্য আরও অস্পষ্ট হয়ে উঠছে। আমারা চরিত্রটি এই প্রবণতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ, যা দেখিয়ে দিচ্ছে কীভাবে ডিজিটাল যুগে আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।



