আমিনুল হক ও জাইমা রহমানের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমের সংকীর্ণতা: একটি বিশ্লেষণ
আমিনুল হক-জাইমা রহমান বিরুদ্ধে সংকীর্ণতা

আমিনুল হক ও জাইমা রহমানের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমের সংকীর্ণতা: একটি বিশ্লেষণ

সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জাইমা রহমানের চেলসির বয়সভিত্তিক মেয়ে ফুটবল দলে গোলকিপার হিসেবে খেলার সুযোগ পাওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছেন। এই সাধারণ কথোপকথন সামাজিক মাধ্যমগুলিতে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় তুলেছে। লেখক আবু সায়েম তার কলামে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজের গভীর সংকীর্ণতার দিকে আলোকপাত করেছেন।

জাইমা রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা ও সমর্থন

জাইমা রহমানকে নিয়ে লেখক আগে ২০২১ সালে ফেইসবুকে লিখেছিলেন, যখন শেখ হাসিনার মন্ত্রী ডা. মুরাদ তাকে নিয়ে নোংরা আলোচনায় মেতে উঠেছিলেন। সেই সময় জাইমার ক্রীড়াপ্রীতি ও দেশপ্রেমের কথা তুলে ধরা হয়েছিল। জাইমাকে প্রথম দেখা আঠারো বছর বয়সে, ঈদের সময় তাদের বাড়িতে নিমন্ত্রণে। তিনি বড়দের সালাম দিতেন, ছোটদের সঙ্গে মিশতেন সহজে এবং শিশুদের প্রতি তার মমতা ছিল লক্ষণীয়।

বর্তমানে জাইমা একজন ব্যারিস্টার হিসেবে যুক্তরাজ্যে মূলধারার অনুশীলন করছেন। গত ডিসেম্বরে বাবার সাথে দেশে ফিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় হয়েছেন, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তার মার্জিত পোশাক ও আচরণ মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ২০১৯ সালে ওভালে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট ম্যাচে তার উচ্ছ্বাস দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আমিনুল হকের রাজনৈতিক ভূমিকা ও সম্মান

আমিনুল হক খেলোয়াড় হিসেবে লেখকের পছন্দের ছিলেন, দীর্ঘ সময় জাতীয় দলে থেকে আকর্ষণ তৈরি করেছিলেন। রাজনীতিতে আসার পর সংসদ নির্বাচনে হেরে গেলেও মন্ত্রী হয়েছেন, তার ভদ্রতার সুনাম রয়েছে। তবে লেখক ও আমিনুল হকের রাজনৈতিক পথ ভিন্ন: লেখক কূটনীতি ও মানবাধিকার নিয়ে ইউরোপ-আমেরিকায় কাজ করেছেন, আর আমিনুল হক রাজপথে সংগ্রাম চালিয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২০২৩ সালের ছয় এমইপির চিঠি নিয়ে আলোচনায় লেখক ও তার দলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যদিও তা সাধারণ মানুষের কাছে কম জানা। আমিনুল হক ও তার সহযোগীরা জীবন বাজি রেখে মাঠে সংগ্রাম চালিয়েছেন, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক পার্থক্য সত্ত্বেও একজন খেলোয়াড় ও মানুষ হিসেবে আমিনুল হক লেখকের শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন।

সামাজিক মাধ্যমের সংকীর্ণ প্রতিক্রিয়া

আমিনুল হকের জাইমার চেলসিতে খেলার তথ্য প্রকাশে নেটিজেনরা হৈচৈ শুরু করেছেন, এআই দিয়ে ছবি বানিয়ে জাইমাকে উপহাস করা হচ্ছে। লেখক প্রশ্ন তুলেছেন: আমাদের সমস্যা কোথায়? জাইমার অতীতের ক্রীড়া-সংশ্লিষ্ট তথ্য সামনে আসা অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু একশ্রেণীর মানুষ এটিকে বিদ্রূপ ও ট্রলের বিষয় বানিয়ে ফেলেছে।

লেখক মনে করেন, আমাদের সমাজে একটি গভীর অবিশ্বাসের সংস্কৃতি বেড়ে উঠছে। কেউ বড় কিছু করতে গেলে অন্যরা হিংসা বা অবিশ্বাস করে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সুযোগ খোঁজে। জাইমা চেলসিতে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন বলেই এই সমালোচনা, যদি স্থানীয় দলের কথা বলা হতো, তাহলে এত বিতর্ক হতো না।

সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো

লেখক কোনো দ্বিধা ছাড়াই জাইমা রহমান ও আমিনুল হকের পাশে আছেন। আমিনুল হকের কথাটি স্বাভাবিক আলোচনার অংশ, এতে তোষামোদির কোনো ঘটনা নেই। জাইমা তার শিক্ষা, রুচি, সচেতনতা ও ব্যক্তিত্বের জন্য সম্মানের দাবিদার, আর আমিনুল হক ক্রীড়াঙ্গনের নক্ষত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যোদ্ধা।

লেখক শেষ করেছেন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দিয়ে: যারা আমিনুল হক বা জাইমা রহমানকে নিয়ে সমালোচনা করছে, তাদের সংকীর্ণতাই এ পথে ঠেলে দিয়েছে। আমাদের মূল সংকট নিজেদের ভেতরের সংকীর্ণতা, এবং কোনো সংকীর্ণ জাতি খুব বেশি দূর এগোতে পারে না।