মেটার নতুন প্রকল্প: ফেসবুকে কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য মাসে ৩ হাজার ডলার আয়ের নিশ্চয়তা
বর্তমান বিশ্বে ভিডিও কনটেন্টের বাজারে ইউটিউব শর্টস, ইনস্টাগ্রাম রিলস এবং টিকটকের দাপট চললেও, মেটা এবার ফেসবুকের মাধ্যমে কনটেন্ট নির্মাতাদের আকৃষ্ট করতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। 'ক্রিয়েটর ফাস্ট ট্র্যাক' নামক একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায়, নির্মাতারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে প্রতি মাসে তিন হাজার ডলার পর্যন্ত নিশ্চিত আয়ের সুযোগ পাবেন।
আয়ের পরিমাণ নির্ভর করে ফলোয়ার সংখ্যার ওপর
ফেসবুক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পে আয় সরাসরি একজন নির্মাতার অনুসারী বা ফলোয়ার সংখ্যার সাথে যুক্ত। যাদের অনুসারী সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে, তারা প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার ডলার পাবেন। অন্যদিকে, ১০ লাখ বা ১ মিলিয়নের বেশি অনুসারী থাকলে মাসিক আয় দাঁড়াবে প্রায় ৩ হাজার ডলারে। তবে এই সুযোগটি কেবল প্রথম তিন মাসের জন্য কার্যকর থাকবে, যার মধ্যে নির্মাতাদের ফেসবুকে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্পের শর্তাবলি: সক্রিয়তা ও মৌলিকতা জরুরি
এই আর্থিক সুবিধা পেতে নির্মাতাদের কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে:
- প্রতি ৩০ দিনের মধ্যে অন্তত ১৫টি রিলস বা স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও পোস্ট করতে হবে।
- পুরো মাসের অন্তত ১০টি পৃথক দিনে ভিডিও আপলোড করা বাধ্যতামূলক।
- ভিডিওগুলো অবশ্যই মৌলিক হতে হবে, তবে অন্য প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হলেও ফেসবুকের ক্ষেত্রে তা গ্রহণযোগ্য।
তিন মাস পর এই নিয়মিত আয় বন্ধ হয়ে গেলেও, নির্মাতারা ফেসবুকের সাধারণ মনিটাইজেশন ব্যবস্থা, যেমন বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড সহযোগিতা, সাবস্ক্রিপশন এবং স্টারসের মাধ্যমে আয় অব্যাহত রাখতে পারবেন।
মেটার কৌশল: ভিডিও কনটেন্টকে ব্যবসার মূল হাতিয়ার হিসেবে দেখা
মেটা বলছে, বর্তমানে শর্ট-ফর্ম ভিডিওর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ফেসবুক রিলস নির্মাতাদের বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। গত কয়েক বছরে অনেক জনপ্রিয় নির্মাতা ফেসবুক ছেড়ে ইউটিউব বা টিকটকে চলে যাওয়ায়, মেটা এখন আর্থিক নিশ্চয়তা ও অ্যালগরিদম সমর্থন কৌশল গ্রহণ করেছে। ২০২৫ সালে মেটা বিশ্বজুড়ে নির্মাতাদের প্রায় ৩০০ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে, যার সিংহভাগ রিলস থেকে এসেছে।
আয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মেটা নতুন কিছু অ্যানালিটিক্স টুলও চালু করেছে, যার মাধ্যমে নির্মাতারা নিজেরাই তদারকি করতে পারবেন কোন ভিডিও থেকে কত আয় হচ্ছে। এই পদক্ষেপটি ফেসবুককে ভিডিও কনটেন্টের বাজারে পুনরায় প্রভাবশালী করে তুলতে সাহায্য করতে পারে।



