ফেসবুক পোস্ট নিয়ে সংঘর্ষে নাতি নিহত, খবর শুনে দাদার মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। নাতির মৃত্যুর খবর শুনে দাদা হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছেন বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের ছত্রপাড়া গ্রামে এই সংঘর্ষ ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, একই গ্রামের হৃদয় হোসেন ঢাকায় থাকাকালীন ফেসবুকে একটি রাজনৈতিক স্ট্যাটাস দেন। এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। ঈদের দুই দিন আগে তিনি বাড়ি ফিরলে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
ঈদের দিন শনিবার দুপুরে হৃদয় হোসেনের সঙ্গে সাহাবুল ইসলামের ছেলে আব্দুল্লাহর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে হৃদয় ও তার চাচা বজলু আহত হন। পরে পাল্টা হামলায় আব্দুল্লাহর মা আলিয়া বেগম, তরিকুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন আহত হন।
সংঘর্ষের পরবর্তী ঘটনা
সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষ হান্নান-কুবির গ্রুপ ও লাল খাঁ-জাহাঙ্গীর গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে। এতে কুবির কাজি ও শিমুল কাজি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় শিমুল হোসেন কাজির (২০) মৃত্যু হয়।
নিহত শিমুল হোসেন কাজি ছত্রপাড়া গ্রামের লাবু হোসেনের ছেলে। অপরদিকে, সংঘর্ষের খবর পেয়ে নাজিম উদ্দিন কাজি (৭০) বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় পড়ে গিয়ে স্ট্রোক করেন। পরে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। নাজিম উদ্দিন কাজি একই গ্রামের মৃত ইংরেজ আলী কাজির ছেলে।
পুলিশের তৎপরতা
ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আলমডাঙ্গা থানার ওসি বানী ইসরাইল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা কীভাবে সহিংসতায় রূপ নিতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়রা শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।



