লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রেস ক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: বৈষম্যহীন সাংবাদিকতার অঙ্গীকার
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় প্রেস ক্লাবের নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে, যা বৈষম্যহীন সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এক সভায় ১৭ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি এবং ৩৪ সদস্যের সাধারণ সদস্যসহ মোট ৫১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটি গঠনে উপজেলার পেশাজীবী গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি ও মতামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
নবগঠিত কমিটির নেতৃত্ব ও সদস্যবৃন্দ
নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাহবুব আলম মিন্টু, যিনি আজকের পত্রিকা-এর সাথে যুক্ত। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন তাবারক হোসেন আজাদ, যিনি যুগান্তর পত্রিকার প্রতিনিধি। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মাহবুবুর রহমান রনিকে মনোনীত করা হয়েছে, যিনি এনপিবি-এর সাথে কাজ করছেন।
কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন:
- সহসভাপতি: মুকুল পাটোয়ারী ও আবদুল করিম
- যুগ্ম সম্পাদক: জহির হাজারি ও মাহমুদুন্নবি সুমন
- অর্থ বিষয়ক সম্পাদক: আরিফ হোসেন রুদ্র
- দফতর সম্পাদক: সুদেব চন্দ্র কুড়ি
- নির্বাহী সদস্য: প্রদীপ কুমার রায়, আনোয়ার হোসেন ঢালি, এমআর সুমন, আবদুল লতিব, মিজানুর রহমান মঞ্জু, ওয়াহিদুর রহমান মুরাদ, রাকিব আল মাজেদ ও কাউছার আলম
এছাড়াও, মাজেদ হোসেন ও মেহেদী মাসুমসহ মোট ৩৪ জনকে সম্মানিত সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন কমিটির বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতি
বুধবার রাত ৯টায় (১৮ মার্চ) কমিটি ঘোষণার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক তাবারক হোসেন আজাদ বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে রায়পুর প্রেস ক্লাবকে কয়েকজনের একটি সিন্ডিকেট কুক্ষিগত করে রেখেছিল।" তিনি উল্লেখ করেন যে, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা করা সত্ত্বেও মেধাবী গণমাধ্যমকর্মীদের সুযোগ দেওয়া হয়নি, বরং সরকারি বেতনভুক্ত শিক্ষক ও অপেশাদার ব্যক্তিদের দিয়ে প্রেস ক্লাব দখল করে রাখা হয়েছিল।
সভাপতি মাহবুব আলম মিন্টু তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, "চাটুকারদের প্রাচীর ভেঙে নতুন কমিটির মাধ্যমে রায়পুরে সুন্দর ধারার এবং বৈষম্যহীন সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠা করা হবে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, উপজেলার পেশাজীবী গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতায় এই দুর্বৃত্তায়ন দূর করা হবে এবং আজ থেকে রায়পুরে সাংবাদিকতা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, বস্তুনিষ্ঠ ও স্বাধীন হবে।
এই কমিটি গঠন রায়পুরের গণমাধ্যম জগতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। স্থানীয় সাংবাদিকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, নতুন নেতৃত্বের অধীনে প্রেস ক্লাবটি আরও পেশাদার ও স্বচ্ছভাবে কাজ করবে, যা এলাকার গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে।



