এতিম শিশুর ভাইরাল চিঠি: আবেগ নাকি প্রতারণার ফাঁদ?
‘ইফতারি বুট-মুড়ি দেয় রাইতে বাত দেয়না, সেহরিতে দেয়। আমার লাইগা কিছু খাওন আইনো, ভালো খাওন’— এই হৃদয়বিদারক চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর হাজারো মানুষের আবেগ উসকে দিয়েছিল। কিন্তু অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক ভিন্ন ও চাঞ্চল্যকর বাস্তবতা।
চিঠির পেছনের গল্প
চিঠিটি লিখেছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর তামীরুল মিল্লাত এতিমখানার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহসিন আব্দুল্লাহ। রমজান মাসে মায়ের উদ্দেশে লেখা এই চিঠিতে দাবি করা হয়, মাদ্রাসায় ভালো খাবার ও জামাকাপড়ের অভাব রয়েছে। তবে প্রতিবেদকের তদন্তে দেখা গেছে, ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
মায়ের অস্বাভাবিক আচরণ
শিশুটির মা নাসরিন আকতারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথমে ইন্টারভিউ দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরের দিন হোয়াটসঅ্যাপে কল দেওয়ার পরামর্শ দিলেও, পরে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার আইডিও ডিএকটিভ করা হয়। এই আচরণ সন্দেহের জন্ম দেয়।
মাদ্রাসার বক্তব্য
মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট মাওলানা মো. ফছিহুর রহমান জানান, শিশুর দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। “আমাদের মাদ্রাসায় রমজানে ইফতার ও সেহরিতে ভারি খাবার দেওয়া হয়। প্রতি মাসে সাবান ও ঈদে নতুন জামাকাপড় দেওয়া হয়,” বলেন তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৫ মার্চ নাসরিন আকতার স্বীকার করেছেন যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে মানুষের সহানুভূতি আদায় করে অর্থ সংগ্রহ করেন তিনি।
ছাত্র ও স্থানীয়দের সাক্ষ্য
তাহসিনের সহপাঠী ওমর ফারুক ও মাহদী হাসান জানান, তাদের কোনো খাবার বা কাপড়ের অভাব নেই। মাদ্রাসার পাশের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম (১১ বছর) ও আবু শরিফ (২৪ বছর) বলেছেন, তারা কখনো ছাত্রদের কষ্টের কথা শুনেননি। বরং রমজানে অতিরিক্ত খাবার আসে।
বাস্তব পরিদর্শন
১৫ মার্চ ইফতারের সময় দেখা যায়, প্রায় ৮-১০ রকমের খাবার, ফল ও মোরগ পোলাও পরিবেশন করা হয়। শিশুদের টংকে নতুন জামাকাপড় ও সাবানও পাওয়া গেছে।
প্রতারণার স্বীকারোক্তি
নাসরিন আকতারের সাথে কথোপকথনে তিনি স্বীকার করেছেন, সন্তানদের কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সহানুভূতি আদায় করে অর্থ সংগ্রহ করেন। এই টাকা দিয়ে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য খরচ চালান তিনি।
শিক্ষণীয় বার্তা
এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগকে অপব্যবহারের একটি উদাহরণ। সহানুভূতি দেখানোর আগে সত্য যাচাই করা জরুরি, নতুবা প্রতারণার শিকার হতে পারেন অনেকেই।



