সোশ্যাল মিডিয়ায় অপবাদ ছড়ানো সহজ, সমাজের জন্য বিপজ্জনক: আসিফ নজরুল
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপবাদ ছড়ানোকে সহজ ও বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য বারবার ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, যা সমাজে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
অনলাইন অপপ্রচারের বিভিন্ন ধরন
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে ফেসবুক স্ট্যাটাসে আসিফ নজরুল অনলাইনে অপপ্রচারের কয়েকটি ধরন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি কাজ করলেও তার বিরুদ্ধে ‘কিছুই করেননি’—এমন অভিযোগ বারবার তোলা হয়। বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার পরও তা উপেক্ষা করে একই অভিযোগ পুনরাবৃত্তি করা হয়, যা ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করে।
আরেকটি প্রবণতা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, অনেক সময় কোনো ঘটনার জন্য অযৌক্তিকভাবে কাউকে দায়ী করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যুক্তি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তা শোনা হয় না; বরং বারবার একই অভিযোগ চাপিয়ে দেওয়া হয়, যা ব্যক্তির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে।
মিথ্যা সংবাদের বিস্তার ও প্রভাব
আসিফ নজরুল আরও লেখেন, কিছু ভুঁইফোড় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে। পরে তা নিম্নমানের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে অপেক্ষাকৃত গ্রহণযোগ্য মাধ্যমেও জায়গা করে নেয়। এতে করে মিথ্যা তথ্যও একসময় মানুষের কাছে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
অপপ্রচারের পেছনের কারণ
এ ধরনের অপপ্রচারের পেছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা, ভুল ধারণা এবং সবচেয়ে বেশি ‘ভিউ’, ‘লাইক’ বা অর্থ উপার্জনের লোভ কাজ করে বলেও মনে করেন তিনি। পাশাপাশি কিছু মানুষের মধ্যে অন্যকে হেয় করার মানসিক তৃপ্তিও এতে ভূমিকা রাখে, যা সামাজিক সম্প্রীতিকে নষ্ট করে।
সমাজে প্রভাব ও সতর্কতা
আসিফ নজরুল সতর্ক করেন, এ ধরনের অপপ্রচার সমাজে মিথ্যার শক্তি বাড়িয়ে দেয় এবং যেকোনো সময় তা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তবে তিনি ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেন, মানুষ ধীরে ধীরে এসব বিষয়ে সচেতন হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অনলাইন নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার রোধে সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর জোর দেয়, যাতে মিথ্যা তথ্য সমাজে বিস্তার না পায়।
