এক্স প্ল্যাটফর্ম থেকে কেন সরে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠান?
এক্স প্ল্যাটফর্ম থেকে সরে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠান

এক্স প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর সরে যাওয়ার কারণ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স (পূর্বে টুইটার) থেকে ধীরে ধীরে সরে দাঁড়াচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়, সিটি কাউন্সিল, দাতব্য সংস্থা ও বিভিন্ন সংগঠন। গত কয়েক মাসে একাধিক প্রতিষ্ঠান এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার বন্ধ বা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা প্ল্যাটফর্মটির ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

গ্রোক এআই বিতর্ক ও তদন্ত

বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুল 'গ্রোক'কে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই টুলের মাধ্যমে বাস্তব ব্যক্তিদের বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর ছবি তৈরি করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিক্রিয়া

উত্তর আয়ারল্যান্ড কাউন্সিল ফর ভলান্টারি অ্যাকশন (নিকভা) গত মার্চ মাসেই এক্সে পোস্ট দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী সেলিন ম্যাকস্ট্রাভিক বলেছেন, 'প্ল্যাটফর্মটি আমাদের নীতিমালার সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।' তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে ভুয়া তথ্য, ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য ক্রমাগত বাড়ছে।

কমিউনিটি ফাউন্ডেশন ফর নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডও গত মে মাসে এক্স ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটির প্রতিনিধি ডেভিড কেনেডি জানান, অনিয়ন্ত্রিত ও আপত্তিকর মন্তব্যের প্রবণতা তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। বিশেষ করে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় ও নতুন অভিবাসীদের নিয়ে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহারের বিষয়টি তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের পদক্ষেপ

সোমবার বেলফাস্ট সিটি কাউন্সিল এক্স ব্যবহার স্থগিত করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তারা গ্রোক এআই-সংক্রান্ত তদারকির বিষয়ে অফকমের পর্যালোচনার ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে। গ্রিন পার্টির কাউন্সিলর ব্রায়ান স্মিথ বলেছেন, 'নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। লাভের চেয়ে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।'

এদিকে ডাবলিন সিটি কাউন্সিল জানুয়ারিতে এক্সে পোস্ট দেওয়া বন্ধ করেছে। চলতি সপ্তাহে পুলিশ সার্ভিস অব নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড জানিয়েছে, তারা জেলা পর্যায়ের এক্স অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করছে। ব্যবহার ও সম্পৃক্ততার মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান

কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এমন প্ল্যাটফর্মে থাকতে চায় যা সম্মানজনক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। তাদের মতে, গত কয়েক বছরে এক্সের পরিবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে এবং এটি তাদের মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

ইতিহাস ও সমালোচনা

২০২২ সালে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে টুইটার অধিগ্রহণ করেন ইলন মাস্ক। এরপর প্ল্যাটফর্মটির নাম পরিবর্তন করে এক্স রাখা হয়। সমালোচকদের দাবি, কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ শিথিল হওয়ায় ঘৃণাত্মক বক্তব্যের পরিমাণ বেড়েছে, যা অনেক প্রতিষ্ঠানকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

এক্সের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সরে যাওয়া প্ল্যাটফর্মটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হয়ে উঠছে। প্রশ্ন উঠছে, প্ল্যাটফর্মটি কি তার আগের অবস্থান হারাচ্ছে, নাকি এটি পরিবর্তনের একটি মাত্র পর্যায়? যাই হোক, এই প্রবণতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভবিষ্যত কাঠামো নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে।