ডেভিন: বিশ্বের প্রথম স্বয়ংক্রিয় এআই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার
ডেভিন: প্রথম স্বয়ংক্রিয় এআই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার

মানুষের সাহায্য ছাড়াই নিজে নিজে পুরো সফটওয়্যার তৈরি করতে পারে এমন প্রযুক্তি এখন বাস্তব। ২০২৬ সালের প্রযুক্তি বিশ্বে এটি আর কোনো কল্পকাহিনী নয়। ডেভিন (Devin) নামের এই এআই বিশ্বের প্রথম স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, যা তৈরি করেছে কগনিশন (Cognition) নামের একটি আমেরিকান টেক স্টার্টআপ।

ডেভিন কীভাবে কাজ করে?

ডেভিন কেবল পরামর্শ দেয় না, সে নিজেই একজন পূর্ণাঙ্গ প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করতে পারে। তাকে যদি সাধারণ ভাষায় বলা হয়, ‘আমাকে একটা দাবা খেলার ওয়েবসাইট বানিয়ে দাও’—সে নিজে থেকেই একটি পরিকল্পনা সাজায়। এরপর সে তার নিজস্ব ভার্চুয়াল কম্পিউটার, কোড এডিটর এবং ইন্টারনেট ব্রাউজার ব্যবহার করে কোড লিখতে শুরু করে। কোড লেখার সময় কোনো ভুল বা ‘বাগ’ হলে সে নিজেই ইন্টারনেট ঘেঁটে, গুগলে সার্চ করে সেই সমস্যার সমাধান করে ফেলে এবং পুরো ওয়েবসাইটটি তৈরি করে বুঝিয়ে দেয়।

তিনটি প্রধান হাতিয়ার

ডেভিনের ভেতরে রয়েছে তিনটি প্রধান হাতিয়ার: কোড এডিটর (IDE) যেখানে সে নিজে কোড লেখে; টার্মিনাল বা শেল (Shell) যেখানে সে কোডটি রান করে পরীক্ষা করে দেখে যে সব ঠিক আছে কি না; এবং ব্রাউজার (Browser) কোনো নতুন লাইব্রেরি বা কোডের নিয়ম জানতে সে নিজে মানুষের মতো ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মানুষের কোডিং শেখার দিন কি শেষ?

এআই যতই নিখুঁত কোড লিখুক না কেন, সে কিন্তু মানুষের মতো ‘অনুভব’ করতে পারে না কিংবা একটা নতুন আইডিয়া মাথা থেকে বের করতে পারে না। সে কেবল মানুষের দেওয়া লজিক এবং ইন্টারনেটে থাকা কোটি কোটি ডেটা বিশ্লেষণ করে কাজ করে। আসল সৃজনশীলতা বা ক্রিয়েটিভিটি কিন্তু মানুষেরই থাকবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রোগ্রামিংয়ের রূপ বদলাচ্ছে

ডেভিনের মতো প্রযুক্তির কারণে এখন কোডিংয়ের রূপ বদলে যাচ্ছে। আগে প্রোগ্রামিং মানে ছিল ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে টাইপ করা, একটি সেমিকোলন বা ব্র্যাকেটের ভুল খোঁজা এবং বোরিং বয়লারপ্লেট কোড লেখা। এখন প্রোগ্রামিং মানে হলো সফটওয়্যারের মূল আইডিয়া কেমন হবে, সেটা মানুষের কী উপকারে আসবে এবং বিভিন্ন সিস্টেম কীভাবে একসাথে কাজ করবে তা ডিজাইন করা।

বিজ্ঞানমনস্ক তরুণদের জন্য বার্তা

ডেভিনের গল্প আমাদের ভয় দেখায় না, বরং এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। এখন আর কোডিং শেখার জন্য কম্পিউটার সায়েন্সের মস্ত বড় পণ্ডিত হতে হবে না। মাথায় যদি একটা দারুণ বৈজ্ঞানিক আইডিয়া থাকে, তাহলে এই এআই-কে সঙ্গী করে নিজেই তৈরি করে ফেলা যেতে পারে ভবিষ্যতের কোনো চমৎকার আবিষ্কার। তাই টেকনোলজির এই নতুন যুগে মুখস্থ করার অভ্যেস বাদ দিয়ে বাড়াতে হবে লজিক্যাল থিংকিং বা যৌক্তিক চিন্তাভাবনা এবং প্রবলেম সলভিং স্কিল।

লেখক: শিক্ষার্থী, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক। সূত্র: কগনিশন ল্যাবস রিসার্চ রিপোর্ট, এমআইটি টেকনোলজি রিভিউ এবং হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ।